আজ, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আজিজ মোহাম্মদ ভাই দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে ১ কোটি শেয়ার ক্রয়ের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ঘোষণায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়েছে, তিনি বাজার থেকে নিজের মালিকানাধীন শেয়ারগুলো কিনে কোম্পানির মূলধন বাড়াতে চান।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আজিজ মোহাম্মদ ভাই ১ কোটি শেয়ার ক্রয়ের জন্য প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয় করবেন বলে অনুমান করা হয়েছে। শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য ১৫৪ টাকা হওয়ায় মোট লেনদেনের পরিমাণ এই রকম নির্ধারিত হয়েছে। তবে শেয়ারের দামের ওঠানামা অনুসারে প্রকৃত ব্যয় কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
শেয়ার ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য তিনি আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে লেনদেন শেষ করার পরিকল্পনা করেছেন। এই সময়সীমা ডিএসইর নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত এবং লেনদেনের সব ধাপ ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে ঘোষণায় উল্লেখ রয়েছে। ব্লক মার্কেটের ব্যবহার বড় পরিমাণের শেয়ার লেনদেনে সাধারণ বাজারের তুলনায় কম দামের প্রভাব নিশ্চিত করে।
আজিজ মোহাম্মদ ভাই ৮০-৯০ দশকের একজন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্ব। তিনি বহু বছর ধরে চলচ্চিত্র প্রযোজনা ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন এবং শিল্পের বিভিন্ন প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন।
২০২৪ সালে সোহেল চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের রায়ে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি পলাতক অবস্থায় আছেন এবং দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। এই আইনি পটভূমি সত্ত্বেও তিনি শেয়ার বাজারে বড় লেনদেনের মাধ্যমে তার আর্থিক অবস্থান শক্তিশালী করতে চাচ্ছেন।
ব্লক মার্কেটের মূল বৈশিষ্ট্য হল ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে শেয়ারের পরিমাণ ও দামের পূর্বনির্ধারণ। এই পদ্ধতিতে লেনদেনের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং বাজারের স্বাভাবিক চাহিদা-সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব কমে যায়। অন্যদিকে সাধারণ বাজারে শেয়ারের দাম সরাসরি চাহিদা ও সরবরাহের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, ফলে বড় লেনদেনের সময় দাম দ্রুত ওঠানামা করতে পারে।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৫৪ টাকা। আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ঘোষিত ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই মূল্যে ১ কোটি শেয়ার কিনলে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে। শেয়ারের দামের সামান্য পরিবর্তন হলেও মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
বড় পরিমাণের শেয়ার ক্রয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত যদি লেনদেন সাধারণ বাজারে হয়। তবে ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে লেনদেন করলে শেয়ারের দাম স্থিতিশীল থাকে এবং অন্যান্য বিনিয়োগকারীর পোর্টফোলিওতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি কমে। এই কারণেই আজিজ মোহাম্মদ ভাই ব্লক মার্কেটকে পছন্দ করেছেন।
ব্লক মার্কেটের ব্যবহার কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার গঠনেও পরিবর্তন আনতে পারে। বড় শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তার উপস্থিতি কোম্পানির কৌশলগত সিদ্ধান্তে প্রভাব বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যৎ তহবিল সংগ্রহে সুবিধা দিতে পারে। একই সঙ্গে বাজারে তার উপস্থিতি শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাস বাড়াতে পারে।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার মূল্যের বর্তমান স্তরে এই লেনদেনের সম্পন্ন হওয়া কোম্পানির মূলধন কাঠামোকে শক্তিশালী করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বড় শেয়ারহোল্ডারের প্রভাব বাড়ার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সারসংক্ষেপে, আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ১ কোটি শেয়ার ক্রয়ের পরিকল্পনা ডিএসইর ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার ব্যয় হবে। এই লেনদেন শেয়ার বাজারে বড় অঙ্কের লেনদেনের সময় দামের অস্থিরতা কমাতে ব্লক মার্কেটের ভূমিকা তুলে ধরবে। একই সঙ্গে কোম্পানির মূলধন শক্তিশালী হবে এবং শেয়ারহোল্ডার গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বড় লেনদেন বাজারের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



