স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামগীর থাকুরগাঁও‑১ নির্বাচনী এলাকার চাঁদাবাজি ও দখলবাজি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন। এটি তার এলাকার উন্নয়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।
তিনি বৃহস্পতিবার নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্টে এই নির্দেশনা শেয়ার করেন। পোস্টে তিনি সরাসরি নাগরিকদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে সমস্যার দ্রুত সমাধান চেয়েছেন।
পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে থাকুরগাঁও‑১ের যেকোনো গ্রাম বা পাড়া থেকে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অবৈধ দখল বা অন্য কোনো অপরাধমূলক ঘটনার তথ্য সরাসরি তার নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এতে তিনি সমস্যার স্থান, সময় এবং প্রমাণসহ বিস্তারিত বিবরণ চেয়েছেন।
এজন্য তিনি https://www.alamgirfortomorrow.com/ ঠিকানায় একটি নিবেদিত পাতা তৈরি করেছেন, যেখানে নাগরিকরা বিস্তারিত বিবরণ, স্থান, সময় এবং প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে পারবেন। সাইটটি ব্যবহারকারী-বান্ধব ইন্টারফেসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকে সহজ করে তুলেছে।
এই সাইটটি ৭ জানুয়ারি উদ্বোধন করা হয়েছিল এবং উদ্বোধনের পর থেকে ইতিমধ্যে প্রচুর সংখ্যক বার্তা প্রাপ্ত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্যের পরিমাণ মন্ত্রীর প্রত্যাশা অতিক্রম করেছে।
প্রাপ্ত বার্তাগুলোতে বিভিন্ন ধরণের জমিদার-ভূমি অধিকার লঙ্ঘন, অননুমোদিত কাঠামো নির্মাণ এবং স্বত্বহীন দখলবাজির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। কিছু অভিযোগে সরাসরি হিংসা ও হুমকির উল্লেখও পাওয়া গেছে।
মন্ত্রীর দায়িত্বের মধ্যে এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্ত। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
থাকুরগাঁও‑১ তার রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার জন্য পরিচিত, যেখানে ভূমি বিরোধ প্রায়ই নির্বাচনী উত্তেজনা বাড়ায়। এ ধরনের বিরোধের সমাধান না হলে স্থানীয় শাসনব্যবস্থার প্রতি জনবিশ্বাস ক্ষয়প্রাপ্ত হতে পারে।
বিপক্ষের কিছু নেতা এই উদ্যোগকে জনগণের স্বার্থ রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে একই সঙ্গে তারা দাবি করেছেন যে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা অতিরিক্ত স্বচ্ছতা ও ত্বরিত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ধরনের তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া নির্বাচনের আগে ভূমি সমস্যার স্বচ্ছতা বাড়িয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। সুতরাং, এই উদ্যোগের সময়সীমা ও ফলাফল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে।
মন্ত্রীর অফিস আগামী সপ্তাহে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাঠাবে। তালিকায় প্রতিটি অভিযোগের প্রকৃতি, স্থান এবং প্রমাণের স্তর উল্লেখ থাকবে।
ওয়েবসাইটের ডেটা রিয়েল-টাইমে আপডেট হবে এবং জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। এটি নাগরিকদেরকে প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ দেবে।
মির্জা ফখরুল ইসলামগীর নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছেন যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অবৈধ দখলবাজির তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে সঠিক তথ্যই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ভিত্তি।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রণালয় ভূমি ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করে জনগণের আস্থা জোরদার করার লক্ষ্য রাখে। ভবিষ্যতে এই মডেলটি অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় সম্প্রসারিত করার সম্ভাবনা রয়েছে।



