ডাক্তার সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মৎস্য ও পশুপালন, কৃষি ও খাদ্য রাজ্য মন্ত্রী, আজ ঢাকা শহরের লিভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউটে একটি বিক্রয় কর্মসূচি উদ্বোধন করে জানান যে রামজান মাসে প্রায় দশ লক্ষ নিম্ন আয়ের পরিবারকে ডিম, মাংস ও মাছের সস্তা বিক্রয় নিশ্চিত করা হবে।
এই উদ্যোগের অধীনে মোবাইল বিক্রয় ভ্যানের মাধ্যমে ২৬ দিন, অর্থাৎ রামজানের ২৫ তারিখ পর্যন্ত ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি, পাস্টুরাইজড দুধ, ডিম এবং গরুর মাংস নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে।
প্রতিটি পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে: ড্রেসড ব্রয়লার মুরগি প্রতি কিলোগ্রামে ২৪৫ টাকা, পাস্টুরাইজড দুধ প্রতি লিটারে ৮০ টাকা, ডিম প্রতি টুকরোতে ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কিলোগ্রামে ৬৫০ টাকা। এই দামের মাধ্যমে বাজারের স্বাভাবিক মূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রীর মতে, রামজানের সময় কিছু অনৈতিক বিক্রেতা মূল্যে অতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটিয়ে দরিদ্র জনগণের কষ্ট বাড়িয়ে দেয়। এ ধরনের অনিয়ম রোধে সরকার এই সস্তা বিক্রয় ব্যবস্থা চালু করেছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্যও উপকারী হবে।
টুকু মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, রামজানের সময় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়, তাই এই পদক্ষেপটি তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সহায়তা করবে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এই প্রোগ্রামকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও, বাংলাদেশ সরকার পরিবার কার্ড, কৃষি কার্ড এবং স্বাস্থ্য কার্ড চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়ক হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা প্রদান সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রামজানে নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য সস্তা খাবার সরবরাহের এই উদ্যোগটি সরকারকে সামাজিক দায়িত্বশীলতা প্রদর্শনের সুযোগ দেবে এবং নির্বাচনী সময়ে ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
তবে, সঠিক সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখা এবং অনৈতিক বিক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। সরকারকে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে বাজারে ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
সারসংক্ষেপে, রামজানের ২৬ দিনব্যাপী এই সস্তা বিক্রয় কর্মসূচি প্রায় দশ লক্ষ পরিবারকে উপকৃত করবে, এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সহায়তা পরিকল্পনার ভিত্তি স্থাপন করবে।



