ঢাকা, ১৯ ফেব্রুয়ারি – নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আয়োজনে ব্র্যাক সেন্টারে বৃহস্পতিবার একটি মিডিয়া ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন সরকারের জন্য বাস্তবসম্মত ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল “ম্যাক্রোইকোনোমিক বেঞ্চমার্ক ফর দ্য নিউ গভর্নমেন্ট”, যা নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের দিক নির্দেশ করে।
ব্রিফিংয়ে সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে উঠে, তার সঙ্গে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনজনই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে, গবেষণা সংস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সিপিডি একটি বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ফোরাম গঠনের সুপারিশ করে, যেখানে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংস্থার মতে, টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কার অর্জনের জন্য এই ধরনের অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ অপরিহার্য, কারণ একতরফা সিদ্ধান্তগ্রহণে নীতির কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
ব্রিফিংয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়, যার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও পরিমাপযোগ্য সূচক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পরিকল্পনাটি যদি সময়মতো বাস্তবায়িত হয়, তবে অর্থনৈতিক সূচকগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সহজ হবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় দ্রুত করা সম্ভব হবে।
বিশেষত স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে সিপিডি একটি শক্তিশালী কৌশলগত পরিকল্পনা দাবি করে। বাণিজ্য সুবিধা হ্রাস, শুল্ক কাঠামো পরিবর্তন এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বজায় রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অবস্থান মজবুত হয়।
সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য আবেগের চেয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রয়োজন। তাই একটি সুসংহত মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তা বাজেট ও সংস্কার কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত, যাতে নীতি ও আর্থিক সম্পদের ব্যবহার সর্বোচ্চ কার্যকারিতা পায়।
তবে সিপিডি সতর্ক করে যে, উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণের পরেও আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিশ্চিত না হলে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে ফারাক সৃষ্টি হবে। তাই লক্ষ্য নির্ধারণের সময় বাস্তবিক সক্ষমতা ও সম্পদের উপলব্ধি বিবেচনা করা অপরিহার্য।
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হলে নতুন সরকার একটি স্থিতিশীল ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারবে। সংস্থার মতে, এই তিনটি নীতি মেনে চলা হলে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এই আহ্বান সরকারকে বহুপক্ষীয় সংলাপের মাধ্যমে নীতি প্রণয়নে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। যদি সরকার এই সুপারিশগুলোকে গ্রহণ করে, তবে পরবর্তী বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আরও বাস্তবসম্মত ও মাপযোগ্য লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
অধিকন্তু, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা ও রোডম্যাপের স্পষ্টতা নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য একটি কার্যকর কাঠামো সরবরাহ করবে। এতে সরকারী কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ সহজ হবে এবং জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
সর্বোপরি, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এই মিডিয়া ব্রিফিং নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা বহুপক্ষীয় অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে নীতি প্রণয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



