অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ফুটবল দল ম্যাটিল্ডাসের ২০২৪ সালের এশীয় কাপের জন্য ২৬ জন খেলোয়াড়ের স্কোয়াড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। কোচ জো মন্টেমুরু এই তালিকায় বেশ কিছু অভিজ্ঞ মুখ ও নতুন মুখের সমন্বয় করেছেন। স্কোয়াডের মধ্যে ক্যাপ্টেন স্যাম কারের উপস্থিতি নিশ্চিত, যিনি এই প্রতিযোগিতায় পঞ্চমবার অংশ নেবেন।
মেরি ফাওলারকে দলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যদিও তিনি সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র ১৫ মিনিটের মাঠে সময় পেয়েছেন। ফাওলার গত এপ্রিলের গুরত্বপূর্ণ ক্রুকিয়াল লিগামেন্ট আঘাত থেকে সেরে উঠছেন এবং এখনো পূর্ণ ফিটনেসে পৌঁছায়নি। তার সীমিত উপস্থিতি সত্ত্বেও কোচ ফাওলারের সৃজনশীলতা ও আক্রমণাত্মক বিকল্প হিসেবে তার সম্ভাবনা দেখছেন।
ফাওলার শেষবার ১ ফেব্রুয়ারি ম্যানচেস্টার সিটি দলের হয়ে চেলসির বিরুদ্ধে ৫-১ জয়ী ম্যাচে কেন্দ্রীয় ফরোয়ার্ড হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য মাঠে নামেন। সেই ম্যাচের পর থেকে তিনি কোনো আনুষ্ঠানিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করেননি, তবে প্রশিক্ষণ সেশনে ধীরে ধীরে ফিরে আসছেন। কোচ মন্টেমুরু তার পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে বিবেচনা করে স্কোয়াডে স্থান দিয়েছেন।
ডিফেন্ডার চার্লি গ্র্যান্টের নাম স্কোয়াডে না থাকায় অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। গ্র্যান্ট নভেম্বর মাসে গুরত্বপূর্ণ হাঁটু আঘাত পেয়েছিলেন এবং তখন থেকে কোনো ম্যাচে খেলেননি। তার দীর্ঘমেয়াদী পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এখনও চলমান, ফলে তিনি এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেননি।
মধ্যমাঠের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় তামেকা ইয়াল্লোপও হ্যামস্ট্রিং আঘাতের কারণে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হননি। ইয়াল্লোপের আঘাত তাকে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলো থেকে দূরে রেখেছে, ফলে কোচকে বিকল্প খেলোয়াড় বেছে নিতে হয়েছে।
স্যাম কারের নেতৃত্বে ম্যাটিল্ডাসের পঞ্চম এশীয় কাপ যাত্রা শুরু হবে। ২০১০ সালে প্রথম এশীয় কাপ জয়লাভের পর থেকে তিনি দলকে বহুবার সাফল্যের শিখরে নিয়ে গেছেন। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।
স্কোয়াডে আটজন নতুন মুখের অন্তর্ভুক্তি রয়েছে, যারা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। এই নবাগতদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য কোচের পরিকল্পনা স্পষ্ট, যাতে ভবিষ্যতে দলকে শক্তিশালী করা যায়।
অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে স্টেফ ক্যাটলি, এলি কার্পেন্টার, ক্যাটলিন ফোর্ড, হেলি রাসো, কাট্রিনা গোরি, এমিলি ভ্যান এগমন্ড এবং আলান্না কেনেডি অন্তর্ভুক্ত। এই খেলোয়াড়রা পূর্বে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং দলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
কোচ মন্টেমুরু স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেন, “দল গঠন করা কখনো সহজ নয়, তবে এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত যারা ম্যাটিল্ডাসের পরিচয় ও আত্মা বহন করে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা অভিজ্ঞ নেতাদের সঙ্গে তরুণ প্রতিভাদের মিশ্রণ করেছি, যারা ভবিষ্যতে দলের মূল স্তম্ভ হবে।” এই বক্তব্য থেকে দল গঠনের মূল নীতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ম্যাটিল্ডাসের রঙের পরিচয় সবুজ ও সোনার, যা দলের ঐতিহ্য ও গর্বকে প্রতিফলিত করে। কোচের মতে, এই রঙের অধীনে খেলোয়াড়দের দায়িত্ব হল দেশকে গর্বিত করা এবং প্রতিপক্ষকে সম্মানজনকভাবে পরাজিত করা।
এশীয় কাপের প্রথম ম্যাচ ১ মার্চ পার্থে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ম্যাটিল্ডাসের মুখোমুখি হবে ফিলিপাইনের দল। এই ম্যাচটি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী গেম হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং দলটি জয়লাভের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চায়।
প্রথম ম্যাচের আগে দলটি পার্থে প্রশিক্ষণ শিবির চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে কৌশলগত প্রস্তুতি ও শারীরিক ফিটনেসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কোচ মন্টেমুরু খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
ম্যাটিল্ডাসের এই স্কোয়াডে অভিজ্ঞতা, তরুণ শক্তি এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় থাকা খেলোয়াড়দের সমন্বয় দেখা যায়। ফাওলারের মতো আক্রমণাত্মক বিকল্প, কারের নেতৃত্ব এবং অন্যান্য মূল খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলটি এশীয় কাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত।
সারসংক্ষেপে, অস্ট্রেলিয়ার মহিলা ফুটবল দল ম্যাটিল্ডাসের এশীয় কাপ স্কোয়াডে কিছু মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও, কোচের কৌশলগত নির্বাচন ও তরুণ প্রতিভার সংযোজন দলকে নতুন শক্তি প্রদান করেছে। পরবর্তী ম্যাচে ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ নেবে, যা টুর্নামেন্টের সাফল্যের সূচনাকারী হবে।



