ঢাকার চীনা দূতাবাস বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন মন্ত্রিসভা শপথের পরপরই চীনের উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের এই অনুরোধটি কূটনৈতিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
চীনের বর্তমান রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, যিনি সম্প্রতি ঢাকা দপ্তরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলাপের সুযোগ চেয়েছেন। চিঠিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষের সময়সূচি সমন্বয় সহজ হয়।
এই অনুরোধের পেছনে চীনের শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক শুভেচ্ছা বার্তা রয়েছে। গত মঙ্গলবার, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণের পর চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং প্রথমেই শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি বার্তা পাঠিয়েছিলেন। একই সময়ে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইওয়ানও নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এসব যোগাযোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সাক্ষাতের অনুরোধকে কূটনৈতিক সংলাপের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার এবং চীনের কূটনৈতিক মন্ত্রণালয় উভয়ই এই ধরনের সাক্ষাতের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনা করার সুযোগ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরপরই কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সৌজন্য সাক্ষাতের সময়সূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে উভয় পক্ষই দ্রুতই একটি উপযুক্ত তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে। এই সাক্ষাতের মাধ্যমে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা গড়ে তোলার পাশাপাশি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের পরপরই চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা ও সাক্ষাতের অনুরোধের ধারাবাহিকতা, বাংলাদেশ সরকার এবং চীনের মধ্যে কূটনৈতিক বন্ধুত্বের দৃঢ়তা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে দু’দেশের বাণিজ্যিক লেনদেন, বিনিয়োগ এবং কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
চীনা দূতাবাসের এই চিঠি, পাশাপাশি চীনের শীর্ষ নেতাদের শুভেচ্ছা বার্তা, দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ইতিবাচক দিককে তুলে ধরে এবং পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ভিত্তি স্থাপন করে। সরকার উভয় পক্ষের সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়ে, এই সাক্ষাতের মাধ্যমে উভয় দেশের স্বার্থে কার্যকরী ফলাফল বের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।



