অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ গ্রুপ পর্যায়ে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, এবং সিলেকশন কমিটির টনি ডোডেমাইডের মন্তব্যে স্টিভ স্মিথের অন্তর্ভুক্তি শুধুমাত্র কভার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। দলটি ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখে শেষ গ্রুপ ম্যাচের পর টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে গেছে। এই ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার জন্য ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রারম্ভিক পর্বে পরাজয় নির্দেশ করে।
অস্ট্রেলিয়া গ্রুপে প্রথম ম্যাচে আইসিসি টি২০ র্যাঙ্কিংয়ে ১১ নম্বরে থাকা জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হোঁচট খায়, যেখানে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের বদলে দলটি হারের মুখোমুখি হয়। পরের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয়া আবারও প্রত্যাশার চেয়ে কম ফলাফল দেখায় এবং টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ে।
দুইটি পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার ভক্ত ও বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা উস্কে দেয়। মিডিয়াতে দলকে সমালোচনা করা হয়, বিশেষ করে টিমের কৌশল ও খেলোয়াড়ের নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
টনি ডোডেমাইড স্পষ্ট করে বলছেন যে স্মিথের অন্তর্ভুক্তি মূল দল নয়, বরং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে কভার হিসেবে রাখা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, “স্মিথকে কভার হিসেবে রাখা হয়েছিল, তাই তিনি মূল স্কোয়াডের অংশ হিসেবে না গিয়ে ব্যাকআপ হিসেবে ছিলেন।”
ডোডেমাইড আরও জানিয়েছেন যে পুরো ক্যাম্পেইনটি “সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ” করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ব্যর্থতা এড়াতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি টিমের পারফরম্যান্সকে “খুবই হতাশাজনক” বলে বর্ণনা করেন।
অস্ট্রেলিয়ার এই অপ্রত্যাশিত প্রস্থান আন্তর্জাতিক টি২০ শেডিউলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়ের রোল নির্ধারণে। অন্যান্য দলগুলো এখন গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রসর হয়ে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া টিমের পরবর্তী পরিকল্পনা এখন বিশ্লেষণ ও পুনর্গঠন পর্যায়ে থাকবে, যেখানে নির্বাচনী কমিটি এবং কোচিং স্টাফের মধ্যে আলোচনা চলবে। ভক্তদের আশা থাকবে যে দলটি শীঘ্রই পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসবে।
অস্ট্রেলিয়া টি২০ দল ২০০৯ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে গ্রুপ পর্যায় অতিক্রম করে অর্ধচূড়ান্ত বা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই ধারাবাহিকতা ভাঙা দল ও সমর্থকদের জন্য বড় ধাক্কা, এবং দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য তীব্র সমালোচনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ব্যর্থতা অস্ট্রেলিয়ার ভবিষ্যৎ টি২০ ক্যালেন্ডারেও ছায়া ফেলতে পারে, কারণ আন্তর্জাতিক শেডিউলে আসন্ন সিরিজ ও টুর্নামেন্টে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে। নির্বাচনী কমিটি এখন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং কভার অপশনগুলো পুনর্বিবেচনা করবে।
সামগ্রিকভাবে, অস্ট্রেলিয়ার টি২০ বিশ্বকাপ থেকে প্রস্থান একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যেখানে কভার খেলোয়াড়ের ভূমিকা এবং দলীয় কৌশল পুনরায় মূল্যায়ন করা হবে। ভক্তদের প্রত্যাশা থাকবে যে দ্রুত পদক্ষেপে দলটি পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পুনরায় শীর্ষে উঠবে।



