29 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeব্যবসারমজান আগে মৌলিক খাবারের দাম ১০‑৩০ শতাংশ বাড়ে, বাজারে মূল্যের তীব্র উত্থান

রমজান আগে মৌলিক খাবারের দাম ১০‑৩০ শতাংশ বাড়ে, বাজারে মূল্যের তীব্র উত্থান

রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ডাল, চাল, পেঁয়াজ, মুরগি, মাটন ও গরুর মাংসের মতো মৌলিক খাদ্যদ্রব্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই মূল্যের উত্থান গড়ে ১০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, তবে পণ্যভেদে পার্থক্য স্পষ্ট। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে, যেমন করওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার, মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প কিচেন মার্কেট, ফার্মগেট, শেরাপাড়া, কাজিপাড়া ও ইব্রাহিম কিচেন মার্কেট, দাম বৃদ্ধি সমানভাবে অনুভূত হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামে সবচেয়ে তীব্র পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় দশ টাকা বাড়ে। গৃহস্থালী বাজারে পেঁয়াজের দাম এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, যেখানে এক সপ্তাহ আগে তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা ছিল। হোলসেল দিক থেকে দাম ৫৩ থেকে ৫৬ টাকা, যা পূর্বে ৪২ থেকে ৪৬ টাকা ছিল। এই বৃদ্ধি মূলত রমজানের সেহরি ও ইফতার প্রস্তুতির চাহিদা বাড়ার ফলে ঘটেছে।

মুরগির দিকেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ফার্মগেটের কিচেন মার্কেটে সোনালি মুরগি এখন প্রতি কেজিতে ৩৪০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ৩০০ টাকা ছিল। ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে পূর্বে তা ১৮০ টাকা ছিল। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতারা উচ্চ ক্রয়মূল্য গ্রহণ করে বিক্রয়মূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

মাটনের দামও উত্থান দেখাচ্ছে। করওয়ান বাজারের মাটন বিক্রেতা জানান, মাটনের দাম এখন প্রতি কেজিতে ১,৩০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ১,২৫০ টাকা ছিল। উচ্চ চাহিদা এবং সীমিত সরবরাহই মূল্যের এই বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।

গরুর মাংসের দামেরও উত্থান স্পষ্ট। গরুর গড় দামের বৃদ্ধি প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। একই সঙ্গে গরুর গড় ক্রয়মূল্য দুই সপ্তাহের মধ্যে ৫,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা বাড়ে, যা সরবরাহকারীদের জন্য অতিরিক্ত খরচের কারণ। বর্তমানে গরুর মাংসের দাম ৮০০ টাকা প্রতি কেজি, যা পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একই পণ্যের দাম বাজারভেদে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, তবে সামগ্রিক প্রবণতা একই রকম। করওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন কিচেন মার্কেট ও ফার্মগেটের রাস্তার বাজারে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়েই দাম বৃদ্ধির প্রভাব অনুভব করছেন। বিক্রেতারা উল্লেখ করেন, রমজানের পূর্বে চাহিদা বাড়ার ফলে সরবরাহকারী থেকে ক্রয়মূল্য বাড়ে, ফলে বিক্রয়মূল্যও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়।

বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই দাম বৃদ্ধি ব্যবসায়িক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। বিক্রেতারা উচ্চ ক্রয়মূল্যকে গ্রাহকের কাছে স্থানান্তর করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা লাভের মার্জিনকে সংকুচিত করে। একই সঙ্গে, গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত হওয়ায় বিক্রয় পরিমাণে সম্ভাব্য হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে। তবে রমজানের সময়কালীন চাহিদা উচ্চ থাকায় বিক্রেতারা মূল্যের এই উত্থানকে স্বল্পমেয়াদে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন।

ভবিষ্যৎ প্রবণতা সম্পর্কে বিশ্লেষণ করা যায়, রমজান শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে, তবে এই সময়কালে গৃহস্থালীর ব্যয় বাড়ার ফলে মুদ্রাস্ফীতি চাপ বাড়তে পারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো ব্যাঘাত না হলে দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে, তবে মৌসুমী চাহিদা এবং পরিবহন খরচের ওঠানামা ভবিষ্যতে আবার দাম বাড়াতে পারে। তাই বাজারে পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়া এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments