29 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeস্বাস্থ্যরমজানে ঘরে তৈরি ছয়টি পুষ্টিকর পানীয়ের রেসিপি

রমজানে ঘরে তৈরি ছয়টি পুষ্টিকর পানীয়ের রেসিপি

রমজান মাসে রোজা ভাঙার সময় ইফতারে হালকা ও পুষ্টিকর পানীয়ের চাহিদা বাড়ে। শরীরের তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রোজা শেষে দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধার করতে সঠিক পানীয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রবন্ধে ঘরে সহজে প্রস্তুত করা যায় এমন ছয়টি স্বাদপূর্ণ পানীয়ের মূল উপাদান ও প্রস্তুত প্রণালী তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথমে গিঁজার লেমনেডের কথা বলা যায়, যা তাজা আদা ও লেবুর রসের সংমিশ্রণে তৈরি। আদা তাজা করে ছোট টুকরো করে কেটে, সামান্য পানিতে ঘষে মসৃণ পেস্ট তৈরি করা হয়; এরপর সূক্ষ্ম ছাঁকনি বা চিজক্লথে চেপে প্রায় দুই থেকে তিন টেবিল চামচ আদা রস বের করা হয়। লেবু থেকে রস চেপে বের করে বীজ ও গুঁড়ো ছাঁকা হয়। বড় একটি পিচারে আদা রস, লেবুর রস এবং ঠান্ডা পানি মিশিয়ে ভালভাবে নাড়ুন, তারপর স্বাদমতো মধু বা পছন্দের মিষ্টি যোগ করুন এবং সম্পূর্ণ গলে যাওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। গ্লাসে বরফের টুকরা দিয়ে পরিবেশন করলে তাজা স্বাদ বাড়ে।

দ্বিতীয় রেসিপি হল গাজর-আদা-কমলা স্মুদি, যা ভিটামিন এ ও সি সমৃদ্ধ। গাজরকে ছোট কিউব করে কেটে, আদা পাতলা স্টিক আকারে কেটে নিন, এবং কমলা ছাঁকিয়ে বীজ ছাড়িয়ে নিন। এক কাপ পানিতে আদা যোগ করে গরম করুন, তবে আদা সরাসরি ফুটন্ত পানিতে না দিয়ে তাপমাত্রা বাড়ার পর কয়েক মিনিট সেদ্ধ করুন, তারপর চুলা বন্ধ করে দশ মিনিট ঢেকে রাখুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে আদার তরল ছাঁকুন। ব্লেন্ডারে গাজর, আদার তরল, কমলার রস এবং মধু যোগ করে মসৃণ হওয়া পর্যন্ত মিশ্রণ করুন। এই পানীয় রোজা শেষে পেটের অম্লতা কমাতে এবং পুষ্টি সরবরাহে সহায়ক।

তৃতীয় রেসিপি পোমেগ্রানেট-লেবু জুস, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। পোমেগ্রানেটের অর্ধেক কেটে কাঠের চামচ দিয়ে হালকা টোকা দিন, যাতে বীজ বের হয়। বীজগুলো ব্লেন্ডারে প্রায় ১৫-২০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করুন, তারপর সূক্ষ্ম ছাঁকনি বা চিজক্লথে ছেঁকে গুঁড়ো ও তন্তু বাদ দিন; এতে প্রায় এক থেকে এক ও অর্ধ কাপ তাজা রস পাওয়া যায়। লেবুর রস যোগ করে স্বাদ সামঞ্জস্য করুন এবং প্রয়োজনে মধু দিয়ে মিষ্টি করুন। ঠান্ডা গ্লাসে পরিবেশন করলে গরম রোজা ভাঙার পর শীতলতা প্রদান করে।

চতুর্থ পানীয়টি হল শসা-পাতা মিনি কুলার, যা শসার রস ও তাজা পুদিনা পাতা দিয়ে তৈরি। শসা পরিষ্কার করে ছোট টুকরো করে কেটে, পুদিনা পাতা ধুয়ে নিন। ব্লেন্ডারে শসা, পুদিনা, লেবুর রস এবং সামান্য লবণ যোগ করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন, তারপর ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে গ্লাসে বরফের সঙ্গে পরিবেশন করুন। শসার উচ্চ জলীয়তা ও পুদিনার শীতল প্রভাব রোজা শেষে হাইড্রেশন বাড়ায়।

পঞ্চম বিকল্প হল গোলাপ দুধ, যা হালকা মিষ্টি ও স্নিগ্ধ স্বাদ দেয়। গরম দুধে গোলাপের জল (এক চা চামচ) ও মধু মিশিয়ে গরম করুন, তারপর ঠান্ডা করে গ্লাসে ঢালুন। এই পানীয় দুধের ক্যালসিয়াম ও গোলাপের অ্যান্টি‑ইনফ্ল্যামেটরি গুণ একসাথে প্রদান করে, যা রোজা শেষে হজমে সহায়তা করে।

শেষে, ছয়টি পানীয়ের মধ্যে একটি হল খেজুর শেক, যা শক্তি পুনরুদ্ধারে উপযোগী। খেজুর গুঁড়া, দই, দুধ এবং সামান্য দারুচিনি গুঁড়া ব্লেন্ডারে মিশিয়ে মসৃণ শেক তৈরি করুন। খেজুরের প্রাকৃতিক শর্করা ও দইয়ের প্রোবায়োটিক গুণ রোজা ভাঙার পর দ্রুত শক্তি ও পেটের স্বাস্থ্যের সমর্থন করে।

এই ছয়টি পানীয়ের প্রস্তুতি সহজ, উপকরণ সহজলভ্য এবং রোজা ভাঙার সময় দেহকে দ্রুত পুনর্জীবিত করতে সহায়ক। প্রতিটি রেসিপিতে প্রাকৃতিক মিষ্টি, ভিটামিন ও খনিজের সমন্বয় রয়েছে, যা রোজার সময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ইফতার বা সেহরিতে এই পানীয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে আপনি রোজার কঠিনতা কমাতে এবং পুষ্টিকর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেন। আপনার পছন্দের স্বাদ অনুযায়ী মধু বা অন্যান্য প্রাকৃতিক মিষ্টি সামঞ্জস্য করে উপভোগ করুন, এবং রমজানের এই পবিত্র মাসে স্বাস্থ্যকর পানীয়ের মাধ্যমে শরীরকে সজীব রাখুন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য প্রতিবেদক
AI-powered স্বাস্থ্য content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments