ইজরায়েলি সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আজ ইরানের সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মোকাবিলায় জরুরি প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ জারি করেছেন। তিনি দেশের উদ্ধার‑সংস্থা এবং হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে অবিলম্বে পরিকল্পনা পর্যালোচনা ও আপডেট করার আদেশ দিয়েছেন, যাতে নাগরিক নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা দ্রুত সাড়া দিতে পারে। এই নির্দেশনা ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে।
ইজরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক কান জানিয়েছে যে, ইরান‑সংক্রান্ত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকটি বৃহস্পতিবার নির্ধারিত থাকলেও হঠাৎ করে রবিবারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, তবে বৈঠকের পুনঃনির্ধারণের কারণ সরকার থেকে প্রকাশ করা হয়নি।
একই সময়ে ইজরায়েলি সরকার তার সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তরে নিয়ে এসেছে। এই সতর্কতা স্তর সাধারণত নজরদারি বাড়ানো, সামরিক ইউনিটের দ্রুত মোতায়েন এবং বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত করে।
নেতানিয়াহু হোম ফ্রন্ট কমান্ড এবং বিভিন্ন সিভিল রেসকিউ সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তারা নাগরিক অবকাঠামো, জরুরি শেল্টার এবং চিকিৎসা সেবার জন্য বিস্তৃত প্রস্তুতি পরিকল্পনা তৈরি করবে। এই পরিকল্পনায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়, সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিতকরণ এবং জনসাধারণকে সম্ভাব্য হুমকি সম্পর্কে অবহিত করা অন্তর্ভুক্ত।
ইউনাইটেড স্টেটসের সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইরানকে শীঘ্রই বড় আকারের কোনো হামলা চালানোর সম্ভাবনা দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ইরানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ ইজরায়েলি সরকারের নিরাপত্তা নীতিকে আরও কঠোর করে তুলবে এবং অঞ্চলে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পরিকল্পিত আক্রমণটি কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিস্তৃত হতে পারে এবং পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলে পরিচালিত সীমিত আক্রমণের তুলনায় অনেক বড় হবে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে, লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অবকাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্ক অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।
ইজরায়েলি সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করার পর, সিভিল ডিফেন্স ইউনিটগুলোতে জরুরি প্রশিক্ষণ ও ড্রিল চালু হয়েছে। এই প্রশিক্ষণগুলোতে নাগরিকদের শেল্টার ব্যবহার, জরুরি সঙ্কেতের প্রতিক্রিয়া এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করার পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত।
নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকের হঠাৎ স্থগিত হওয়া বিষয়টি কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে বিভিন্ন অনুমান উত্থাপন করেছে। যদিও সরকার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি, কিছু সূত্র ইঙ্গিত করে যে, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক চালনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা বিবেচনা করে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, ইজরায়েলি সরকারের এই পদক্ষেপগুলো অঞ্চলের কূটনৈতিক গতিবিদ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে। ইরান‑ইজরায়েল সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়লে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর নীতি ও নিরাপত্তা কৌশলও পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হতে পারে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সামরিক ও কূটনৈতিক সমন্বয়।
ইরান যদি বৃহৎ আকারের আক্রমণ চালায়, ইজরায়েলি সরকার দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা পুরো অঞ্চলে বিস্তৃত সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখতে এবং বৃহত্তর যুদ্ধে রূপান্তর রোধে আহ্বান জানানো হচ্ছে। তবে, উভয় পক্ষের সতর্কতা ও প্রস্তুতি বাড়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইজরায়েলি সরকার ইরানের সম্ভাব্য হুমকির প্রতিক্রিয়ায় যে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলবে। সরকারী প্রস্তুতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতা নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ বাড়াতে পারে, তবে একই সঙ্গে সামরিক ব্যয় ও সামাজিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইস্রায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার পুনঃনির্ধারিত বৈঠক রবিবারে অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইরান‑সংক্রান্ত কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বৈঠকের ফলাফল ইজরায়েলি সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



