ধারাবাহিক পডকাস্টে ঢালিউডের পরিচিত অভিনেত্রী শবনম বুবলি ধর্ম, গীবত এবং সামাজিক নৈতিকতা সম্পর্কে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তিনি বিশেষভাবে নেটিজেনদের সমালোচনামূলক মন্তব্যের মুখোমুখি হয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
বুবলি চলচ্চিত্র জগতে তার ক্যারিয়ার শুরু করার পর থেকে ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তার কাজের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয়েও তার কথা শোনা যায়, তবে এবার তিনি সরাসরি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।
পডকাস্টে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি একজন মুসলিম হিসেবে নামাজ আদায় করেন, রোজা রাখেন এবং রোজা রাখার সময়ও কাজ চালিয়ে যান। এই কাজের ধারায় তিনি আল্লাহর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সংযোগকে গুরুত্ব দেন, তবে তিনি কখনোই দাবি করেননি যে তিনি কোরআনের পুরো পাঠ ১০০% মুখস্থ।
ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কথা বলার অনুমতি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছিল, তার উত্তরে তিনি বলেন, একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার ধর্মীয় পরিচয়কে কোনো বাধা হিসেবে দেখেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেওয়া তার পরিচয়ের কোনো বিরোধ নয়।
সেই সঙ্গে তিনি সামাজিক মিডিয়ায় নৈতিকতা প্রচারকারী কিছু ব্যক্তির প্রতি প্রশ্ন তুলেন, যারা নিজেদেরকে বড় ইসলামিক মাইন্ডেড বলে দাবি করে। তিনি উল্লেখ করেন, তারা চলচ্চিত্র দেখেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেন, তবু কেন তারা গীবত করে অন্যকে সমালোচনা করে।
বুবলি জোর দিয়ে বলেন, গীবত করা ইসলামে অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং তা সুদ, ঘুষ বা ব্যভিচারের চেয়েও বেশি পাপ। তিনি এই কাজকে মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার সমান বলে তুলনা করে তার নিন্দা প্রকাশ করেন।
অভিনেত্রীর পেশা নিয়ে যে সমালোচনা করা হয়, তার তুলনায় গীবত করা অধিক গুরুতর অপরাধ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের নায়িকা হওয়া মানে তারা অভিনয় করে, তবে গীবত করা মানে অন্যের মর্যাদা নষ্ট করা, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।
বুবলি তার কাজের মাধ্যমে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করার কথা পুনরায় জোর দেন। তিনি রোজা রাখার সময়ও শুটিং চালিয়ে যান, যা তার আল্লাহর সঙ্গে সংযোগের একটি অংশ হিসেবে দেখেন।
তিনি সমালোচকদের কাছে আহ্বান জানান, নিজেদের আচরণে স্বচ্ছতা আনতে এবং অন্যকে গীবত করার বদলে আত্মপর্যালোচনা করতে। তিনি বলেন, নৈতিকতা শুধুমাত্র কথায় নয়, কাজেও প্রকাশ পেতে হবে।
পডকাস্টের পর সামাজিক মিডিয়ায় এই বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ পায়। কিছু ব্যবহারকারী তার সৎ ও স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রশংসা করেন, আবার অন্যরা তার অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
এই আলোচনার মাধ্যমে ধর্ম, গীবত এবং বিনোদন জগতের সংযোগ নিয়ে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও গভীর বিশ্লেষণের বিষয় হতে পারে।



