১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনা বিভাগের কোনো প্রতিনিধি মন্ত্রী পদে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, ফলে বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত দেখা দিয়েছে।
খুলনা বিভাগের মোট ৩৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি মাত্র ১১টি জিতেছে, যা বিভাগীয় পারফরম্যান্সের দিক থেকে দলটির সেরা ফলাফল।
বিশেষ করে খুলনা জেলায় দলটি শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করেছে; এখানে প্রায় ৬৭ শতাংশ আসনে জয়ী হয়ে দলটি সর্বোচ্চ শেয়ার পেয়েছে।
তবে নতুন মন্ত্রিসভায় খুলনা ও রংপুর উভয়ই কোনো মন্ত্রী পায়নি, ফলে আটটি বিভাগীয় সদর জেলায় মাত্র দুইটি জেলায়ই মন্ত্রী নিয়োগ হয়েছে।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা এই অবহেলাকে দীর্ঘমেয়াদী বঞ্চনার ধারাবাহিকতা বলে অভিযোগ করছেন; তারা দাবি করে যে, স্বাধীনতার পর থেকে খুলনা ধারাবাহিকভাবে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়টি খুলনার প্রতি বৈষম্য হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে; অনেক ব্যবহারকারী মন্ত্রিসভায় খুলনার অনুপস্থিতিকে রাজনৈতিক অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
বিএনপি স্বাধীনতার পর পঞ্চমবার ক্ষমতায় আসলেও, ১৯৯৬ সালের সংক্ষিপ্ত মেয়াদে এবং পূর্বের মন্ত্রিসভায়ও খুলনা থেকে কোনো সংসদ সদস্য মন্ত্রিত্বে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, যা অতীতের বঞ্চনার ধারাকে পুনরায় জোরদার করে।
এই নির্বাচনে খুলনা থেকে চারজন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন: রকিবুল ইসলাম, এস.কে. আজিজুল বারী হেলাল, পূর্বের বিসিবি সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগার এবং আমীর এজাজ খান।
রকিবুল ইসলাম ও এস.কে. আজিজুল বারী হেলাল কেন্দ্রীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী নেতা, আর মোহাম্মদ আলি আসগার জামাতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পরাজিত করে জয়লাভ করেন।
আমীর এজাজ খান জামাতের কৃষ্ণ নন্দীকে হারিয়ে সংসদ সদস্য হয়েছেন, তবে তারাও মন্ত্রিসভায় কোনো পদ পাননি।
নগর এলাকার এক চায়ের দোকানে ভোটার অলোক বৈদ্য বলেন, “বিভাগে বিএনপি সবচেয়ে ভালো করেছে খুলনায়, তবু মন্ত্রিত্বে মাত্র একটি জেলায়ই কাউকে রাখা হয়েছে; এটা খুলনার মানুষের প্রতি চিরায়ত বঞ্চনা।” তিনি আরও যোগ করেন, “কম করে একজন প্রতিমন্ত্রী তো এখানে থেকে দেওয়া যেত।”
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামানও একই মত প্রকাশ করেন, “বিভাগীয় জেলা হিসেবে মন্ত্রিসভায় খুলনার একটি প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত ছিল; স্বাধীনতার পর থেকে এই বঞ্চনা অব্যাহত রয়েছে।”
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন যে, মন্ত্রিসভায় খুলনার অনুপস্থিতি দলীয় অভ্যন্তরে চাপ বাড়াতে পারে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনায় খুলনা প্রতিনিধিত্বের দাবি আরও তীব্র হবে। দলটি যদি এই অসন্তোষের মোকাবিলা না করে, তবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ভোটারদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকি থাকতে পারে।



