১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ইউক্রেনের ভূখণ্ডে রুশ সেনাবাহিনীর জন্য বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মিখাইলো ফেডোরভের অনুরোধ রয়েছে, যিনি রুশ বাহিনীর সেবা ব্যবহার বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন।
স্টারলিংক রুশ বাহিনীর জন্য বন্ধ হওয়ার ফলে মস্কোর সামরিক অগ্রগতি ধীর হয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকারী সূত্র জানাচ্ছে। পূর্ব জাপোরিজহিয়া শহরের পূর্বাংশে রুশ ইউনিটগুলোকে পিছু হটতে দেখা গেছে, যেখানে আগে তারা দ্রুত অগ্রসর হচ্ছিল।
একজন ড্রোন অপারেটর, যিনি গিয়োভান্নি কলসাইন ব্যবহার করেন, জানান রুশ বাহিনীর আক্রমণ ক্ষমতা প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আক্রমণের সংখ্যা, শত্রু ড্রোনের উপস্থিতি এবং সামগ্রিক যুদ্ধের তীব্রতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
স্টারলিংক রুশ বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল কারণ এটি রিয়েল-টাইম ভিডিও লিংক সরবরাহ করে ড্রোন ও অন্যান্য অস্ত্রকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্দেশনা দেয়। বিশেষ করে $৪০০ মূল্যের ইউনিটগুলো ড্রোনে সংযুক্ত করে রাশিয়ান অপারেটররা লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি নজর রাখতে পারত।
গত মাসে খারকিভ অঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে সংঘটিত মারাত্মক আক্রমণেও স্টারলিংক টার্মিনালযুক্ত গেরান-২ ড্রোনের ব্যবহার সন্দেহ করা হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে স্টারলিংকের কৌশলগত গুরুত্ব উভয় পক্ষের জন্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
স্টারলিংক বন্ধের আগে রাশিয়ান বাহিনীর কাছে শত শত টার্মিনাল ছিল, যা তারা যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সংযোগের জন্য ব্যবহার করত। তবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে স্পেসএক্স সমস্ত টার্মিনাল বন্ধ করে দেয় এবং শুধুমাত্র কিয়েভের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ‘হোয়াইট লিস্ট’ে থাকা ইউনিটগুলোকে পুনরায় সক্রিয় করতে দেয়।
এই নতুন নীতির ফলে ইউক্রেনের বেসামরিক ব্যবহারকারীদেরও টার্মিনাল পুনরায় নিবন্ধন করতে হয়। তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় নম্বর ও অন্যান্য তথ্য প্রদান করে পুনরায় সংযোগের অনুমতি নিতে হয়। এই প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য সেবা বিঘ্নিত করলেও, নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।\n
স্টারলিংক বন্ধের পর, স্বেচ্ছাসেবী গোষ্ঠী ইনফরমনাপাল্ম একটি ফিশিং অভিযান চালায়, যা রুশ বাহিনীর টার্মিনাল পুনরায় সক্রিয় করার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে। এই গোষ্ঠী ইন্টারনেট নিরাপত্তা ও তথ্য সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
ইউক্রেনের সামরিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, স্টারলিংকের সীমাবদ্ধতা রুশ বাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। রাশিয়ান কমান্ডাররা রিয়েল-টাইম ডেটা ছাড়া লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, ফলে তাদের আক্রমণগত গতি কমে গেছে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্টারলিংকের সীমিত ব্যবহারকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করছে। অনুমোদিত ইউনিটগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকায় কেন্দ্রীভূত করে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক যোগাযোগের নিরাপত্তা ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা ও স্যাটেলাইট সেবা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
স্টারলিংক বন্ধের প্রভাব এখনও পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হয়নি, তবে বর্তমান তথ্য থেকে দেখা যায় রুশ বাহিনীর সামরিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক পরিকল্পনা এখন এই নতুন বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য করে চলেছে, এবং ভবিষ্যতে স্টারলিংকের ব্যবহার কীভাবে পুনর্নির্ধারিত হবে তা আন্তর্জাতিক নজরে থাকবে।



