হোয়াইট হাউসের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মতে, মার্কিন সামরিক বাহিনী আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সিরিয়ায় অবশিষ্ট প্রায় ১,০০০ সৈন্যকে প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা চালু করেছে। সিরিয়ার সরকার টেররবিরোধী কার্যক্রমে নিজে নেতৃত্ব নিতে সম্মত হয়েছে এবং বৃহৎ মাত্রায় মার্কিন উপস্থিতি আর প্রয়োজনীয় নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাহিনীর সিরিয়ায় উপস্থিতি ২০১৫ সাল থেকে চলমান, যা ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস) দমন করার জন্য গৃহীত একটি বৃহৎ আঞ্চলিক অভিযানের অংশ ছিল। সেই সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী, বিশেষ করে ড্রোন ও স্থলবাহিনী, সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পরিবর্তনের সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলেছে, যা সিরিয়ায় থেকে বাহিনীর প্রত্যাহারের সঙ্গে সমন্বয়পূর্ণ।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই প্রত্যাহার একটি শর্ত-ভিত্তিক রূপান্তরের অংশ, যেখানে সিরিয়ার সরকার টেররবিরোধী দায়িত্ব গ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ কমানো হবে। তবু, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো অঞ্চলীয় হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের নিকটবর্তী সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর দুইটি প্রধান জাহাজের চলাচল লক্ষ্য করা গেছে। ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার জাহাজটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার এবং বহু ফাইটার জেটসহ ইরানের সমুদ্রসীমার কাছে অবস্থান করছে। পাশাপাশি, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডও মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য আক্রমণের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে শনিবারের মধ্যে প্রস্তুত রাখতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। এই প্রস্তুতি ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সতর্কতা বাড়িয়ে তুলেছে।
সিরিয়ায় ইতিমধ্যে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি থেকে বাহিনী প্রত্যাহার করা হয়েছে। বছরের শুরুর দিকে আল তানফ গ্যারিসন (দক্ষিণ সিরিয়া) এবং আল শাদ্দাদি ঘাঁটি (উত্তর-পূর্ব সিরিয়া) থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করা হয়। এই পদক্ষেপগুলো ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতন এবং আইএসআইএসের ক্ষমতা হ্রাসের পর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে যুক্ত।
আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ার নিরাপত্তা কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে, যা টেরর গ্রুপের কার্যক্রমকে সীমিত করেছে। এই পরিবর্তনের ফলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সিরিয়ার রাজধানী দমাস্কাসের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাআ হোয়াইট হাউসে নভেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা দু’দেশের কূটনৈতিক সংলাপের নতুন পর্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সিরিয়া থেকে ধীরে ধীরে প্রত্যাহার এবং একই সঙ্গে ইরানের নিকটে নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা গতিপথে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। সিরিয়ার সরকার টেররবিরোধী দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমে যাওয়া অঞ্চলীয় শক্তি গঠনে কী প্রভাব ফেলবে, তা আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বিষয় হয়ে থাকবে।



