ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেন্ট্রাল স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (Ducsu) গত চার মাসে ইস্লামি ছাত্র শিবিরের সমর্থনে পরিচালিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তবে কিছু নেতা ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত আচরণের জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
ইউনিয়নের নিজস্ব বাজেট থেকে ক্যারিয়ার উন্নয়ন, গবেষণা ও দক্ষতা বৃদ্ধির উপর ভিত্তি করে সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের পেশাগত দিক থেকে প্রস্তুত করা এবং গবেষণার প্রতি আগ্রহ জাগানো।
সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইউনিয়ন ১১৯ জন শিক্ষার্থীর সাইবার হয়রানি ও অন্যান্য বিরোধের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করেছে, যা তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে পুরনো ডরমিটরিগুলোর মেরামতের জন্য ৫.৫ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় মসজিদের রূপান্তরের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই অর্থায়ন ভূমিকম্পে দুর্বল ভবনগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করবে।
নন-রেসিডেন্ট শিক্ষার্থীদের জন্য সন্ধ্যাকালীন বাস পরিষেবা চালু করা এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে অনলাইন সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম প্রবর্তনের দাবিতে ইউনিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা গ্রন্থাগারের সম্পদ বৃদ্ধি ও ব্যবহার সহজ করবে।
এই ইতিবাচক পদক্ষেপের পাশাপাশি কিছু নেতা শিক্ষক হেনস্থা ও অতিরিক্ত ক্যাম্পাস পুলিশিংয়ের অভিযোগে মুখোমুখি হয়েছেন। সম্প্রতি কয়েকজন নেতা ক্যাম্পাসের অস্থায়ী দোকান ও দরিদ্র লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রোডাকশন ড্রাইভে অংশ নেন।
একজন নেতা কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রবেশ করা বাহিরের ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান করে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ডিসেম্বর ১১, ২০২২-এ Ducsu-র সামাজিক কল্যাণ সচিব এ বি জুবায়ের নেতৃত্বে একটি দল তিনজন প্রো-আওয়ামী লীগ “নীল দল” শিক্ষককে হেনস্থা করে। ঘটনাটি সামাজিক বিজ্ঞান ফ্যাকাল্টিতে ঘটে, যেখানে প্রফেসর এ কে এম জামাল উদ্দিন, প্রফেসর আজমাল হোসেন ভূইয়া এবং প্রফেসর জিনাত হুদা ভিসি-কে একটি স্মারক জমা দিয়ে বাধা দেওয়া শিক্ষককে পুনরায় ক্লাস নিতে অনুমতি চেয়েছিলেন।
জানুয়ারি ২৫-এ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একই সচিবকে কেন্দ্রীয় মাঠে কিছু ছেলেকে কানের পিছনে ধরে স্কোয়াট করিয়ে দিচ্ছেন দেখা যায়। এই দৃশ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুপযুক্ত শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন তুলেছে।
সার্বিকভাবে, প্রথম চার মাসে ইউনিয়ন শিক্ষার্থীর কল্যাণে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি কিছু নেতার অতিরিক্ত আচরণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ক্যাম্পাসে ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ বজায় রাখতে সকল পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন; আপনি কি মনে করেন, শিক্ষার্থী ইউনিয়নের কাজের স্বচ্ছতা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?



