১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমাপ্তির পর নির্বাচন কমিশন (ইসিসি) তিনটি প্রধান সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (সিসিসি) ভোটের সময়সূচি ইদ‑উল‑ফিতরের পরে নির্ধারিত হবে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিডি) ইসিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে ডিএনসিসি, ডিএসসিসি ও সিসিসি-র ভোটের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া যায়। এই অনুরোধের পর ইসিসি প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে এবং নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কাজ চালু করেছে।
এলজিডি-র সচিব গত মাসের শেষ সপ্তাহে ইসিসি-কে দুটি পৃথক চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিএসসিসি-র প্রথম সভা ২ জুন ২০২০-এ অনুষ্ঠিত হয় এবং পাঁচ বছরের মেয়াদ ১ জুন ২০২৫-এ শেষ হয়েছে। ডিএনসিসি-র প্রথম সভা ৩ জুন ২০২০-এ অনুষ্ঠিত হওয়ায় মেয়াদ ২ জুন ২০২৫-এ সমাপ্ত হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মেয়াদ এই বছর ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে।
চিঠিগুলো আরও জানায়, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন অনুসারে, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া বাধ্যতামূলক। তাই ইসিসি-কে আইনগত সময়সীমা মেনে দ্রুত নির্বাচন পরিকল্পনা করতে হবে।
আগস্ট ৫, ২০২৪-এ জুলাই মাসের গণউত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের ফলে বহু স্থানীয় সরকার সংস্থা শূন্য অবস্থায় রয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া, ১২টি সিটি কর্পোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৬১টি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (মোট ৪৯৫-এ ২টি বাদে) এবং ৯৮৮টি উপউপজেলা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান ও মহিলা উপ-চেয়ারম্যানের পদ শূন্য। অধিকাংশ নির্বাচিত কর্মকর্তা গোপনে অদৃশ্য হয়ে গেছেন।
একটি আদালতের আদেশের পর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শাহাদত হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ করানো হয়েছে। তবে অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের শূন্য পদগুলো এখনও পূরণ হয়নি।
শূন্য পদগুলোর ফলে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের বেশিরভাগ চেয়ারম্যান ও সদস্যও গোপনে লুকিয়ে আছেন, ফলে গ্রাম স্তরে পরিষেবা প্রদান ব্যাহত হয়েছে।
সরকারের সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে ইসিসি ও এলজিডি ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করবে। ইসিসি-র প্রস্তুতি দল ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা আপডেট, ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা চালু করেছে।
প্রস্তুতি পর্যায়ে আইনগত বাধ্যবাধকতা মেনে ১৮০ দিনের সময়সীমা পূরণ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এদিকে, নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন ও কর্মী নিয়োগের কাজও সমান্তরালভাবে চলবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইদ‑উল‑ফিতরের পরে ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের মাধ্যমে সরকার স্থানীয় শাসনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে চায়। শূন্য পদগুলো পূরণ হলে পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশেষে, ইসিসি ও সরকার উভয়ই স্থানীয় শাসনের পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দিয়ে, শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য শহরে স্থানীয় স্বশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।



