19 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুবরণ

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুবরণ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম, ৮৯ বছর বয়সে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রামান্টো শহরে গতকাল নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিনিধিত্বকারী মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

মাইলাম ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে যোগদান করেন এবং তার ক্যারিয়ারে বহু গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে কাজ করেন। বাংলাদেশে তার মেয়াদে তিনি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করতে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে তিনি পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশে কূটনৈতিক মিশনে অংশ নেন, যা তার আন্তর্জাতিক নীতি ও কূটনৈতিক দক্ষতা বাড়িয়ে দেয়।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে তিনি ঢাকা শহরে মার্কিন দূতাবাসের প্রধান হিসেবে কাজ করেন এবং বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংলাপ চালান। তার দায়িত্বকালে দুই দেশের বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

মাইলাম অবসর গ্রহণের পরও বাংলাদেশে নিয়মিত সফর চালিয়ে যান। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি ঢাকা ফিরে এসে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং দেশের উন্নয়ন নীতি নিয়ে আলোচনা করেন। তার উপস্থিতি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়।

মাইলামের মৃত্যুর খবর প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক জন এফ ড্যানিলোভিচ এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে জানিয়ে দেন। ড্যানিলোভিচ মাইলামের সঙ্গে কাজের সময়ের স্মৃতি ও বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং মাইলামের অবদানকে সম্মান জানান।

বাংলাদেশের মেক্সিকোতে কর্মরত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল ফেসবুকে সমবেদনা জানিয়ে মাইলামের পরিবারকে সমর্থন জানান। উভয়েই মাইলামের কূটনৈতিক কাজের প্রশংসা করে এবং তার স্মৃতিকে সম্মানিত করার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন।

মাইলামের মেয়ে, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিকা মাইলাম, ইমেইলের মাধ্যমে তার পিতার মৃত্যুর সংবাদ মুশফিকুল ফজলকে জানিয়ে দেন। তিনি পিতার আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অবদানের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন এবং পরিবারকে সমবেদনা জানাতে অনুরোধ করেন।

মাইলামের মৃত্যু বাংলাদেশে কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার দীর্ঘ সময়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাংলাদেশ সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে।

মাইলাম তার ক্যারিয়ার জুড়ে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলিতে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি প্রায়ই বাংলাদেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতেন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করতেন।

মাইলামের অবসর পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যান এবং বিভিন্ন শৈল্পিক ও শিক্ষামূলক প্রকল্পে অংশ নেন। তার বিশ্লেষণ ও পরামর্শ দেশীয় নীতি গঠনে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছে।

মাইলামের মৃত্যুর পর বাংলাদেশ সরকার ও কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সরকারী দফতরগুলোতে শোকের পতাকা তোলা হয়েছে এবং তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে একাধিক সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

মাইলামের দীর্ঘায়ু ও কূটনৈতিক সেবার স্মৃতি ভবিষ্যৎ কূটনীতিকদের জন্য একটি আদর্শ হিসেবে রয়ে যাবে। তার কাজের মাধ্যমে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভিত্তি ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments