19 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধলেক্স ওয়েক্সনার হাউস ওভারসাইট কমিটিতে সাক্ষ্য দিয়ে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের দায় স্বীকার...

লেক্স ওয়েক্সনার হাউস ওভারসাইট কমিটিতে সাক্ষ্য দিয়ে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের দায় স্বীকার না করে ‘নবী’ বললেন

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটি লেক্স ওয়েক্সনারকে আমন্ত্রণ জানায়, যিনি ভিক্টোরিয়া সিক্রেটের প্রাক্তন সিইও এবং একসময় জেফ্রি এপস্টেইনের আর্থিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। ওয়েক্সনার, যিনি ওহাইওতে বসবাস করেন, কমিটির সামনে তার এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন যে তিনি এপস্টেইনের ওপর ‘নবী, বোকা ও সহজে প্রভাবিত’ ছিলেন।

কমিটি সদস্যরা ওহাইওতে গিয়ে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ওয়েক্সনারকে ডেকেছেন। এই সেশনে কেবল ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন; রিপাবলিকান পার্টির কোনো আইনপ্রণেতা না এসে, তবে তাদের কিছু কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। সাক্ষ্যের সময় ওয়েক্সনার জোর দিয়ে বললেন যে তিনি এপস্টেইনের কোনো অপরাধ সম্পর্কে জানতেন না এবং তার সঙ্গে থাকা কোনো আর্থিক লেনদেনের দায় স্বীকার করতে অস্বীকার করেন।

ওয়েক্সনারের বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন যে এপস্টেইন তাকে ‘একজন কনম্যান’ হিসেবে ধোঁকা দিয়েছে এবং তিনি তার ওপর অতিরিক্ত বিশ্বাস রাখার জন্য ‘নবী, বোকা ও সহজে প্রভাবিত’ ছিলেন। তিনি যুক্তি দেন যে তিনি কোনো অবৈধ কাজ করেননি এবং তার কোনো গোপনীয় কিছু লুকিয়ে রাখার নেই। তার বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে তিনি এবং তার পরিবার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে কয়েক ঘন্টা কাটিয়েছেন, তবে তা কোনো অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল না।

হাউস ওভারসাইট কমিটির সদস্য রবার্ট গার্সিয়া, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি, এপস্টেইনের সম্পদ ও ক্ষমতার মূল ভিত্তি হিসেবে ওয়েক্সনারের ভূমিকা তুলে ধরেন। গার্সিয়া বলেন, “যদি এপস্টেইনের দ্বীপ, বিমান বা নারীদের পাচার করার জন্য কোনো অর্থ না থাকত, তবে তিনি আজকের মতো ধনী মানুষ হতেন না। তার সম্পদ ওয়েক্সনারের সমর্থন ছাড়া সম্ভব হতো না।”

ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ২০১৯ সালের একটি নথিতে ওয়েক্সনারকে এপস্টেইনের সম্ভাব্য সহ-অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, তবে তখন থেকে তার বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি। ওয়েক্সনারের এই সাক্ষ্য তার ওপর আরোপিত সন্দেহ দূর করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও আইনসভার সদস্যরা তার এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে জ্ঞাত ছিল কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

সাক্ষ্যের শেষে ওয়েক্সনার বলেন, “আমি এখানে উপস্থিত হয়ে সত্যটি পরিষ্কার করতে চাই এবং আমার দায়িত্বের প্রতি সৎ থাকতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি কোনো ভুল কাজ করিনি এবং আমার কোনো গোপনীয় কিছু নেই।” তার এই মন্তব্যের পর কমিটি সদস্যরা অতিরিক্ত প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ করে এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেন এবং ওয়েক্সনারের পরিবারিক সম্পদের মধ্যে সম্ভাব্য সংযোগের বিষয়ে।

এই সাক্ষ্য গ্রহণের পর, হাউস ওভারসাইট কমিটি এপস্টেইন মামলায় আরও গভীর তদন্তের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তারা এপস্টেইনের আর্থিক নথি, দ্বীপে গৃহীত অতিথি তালিকা এবং ওয়েক্সনারের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেনের বিশদ বিশ্লেষণ করতে চায়। এছাড়া, কমিটি রিপাবলিকান পার্টির সদস্যদেরও এই বিষয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তদন্তের স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম প্রকাশের পর, যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখনো ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ওয়েক্সনারের সাক্ষ্য এই বৃহত্তর প্রক্রিয়ার একটি অংশ, যেখানে সরকারী সংস্থা এবং কংগ্রেস উভয়ই এপস্টেইনের অপরাধ নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ চিত্র উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে।

বিবেচনা করা হচ্ছে যে, ওয়েক্সনারের ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান কী হবে এবং তার বিরুদ্ধে কোনো নতুন অভিযোগ আনা হবে কিনা। তদুপরি, এপস্টেইনের আর্থিক নথি ও তার সম্পদের উৎস সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দায়িত্ব নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। বর্তমান সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা এবং ফেডারেল সংস্থাগুলি এই মামলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করছে, যাতে এপস্টেইনের অপরাধের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments