20 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা ও শিক্ষাপঞ্জি সংশোধন করে জানিয়েছে। নতুন সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার‑শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাদে মোট ৬৭ দিন ছুটি থাকবে। তালিকায় সবচেয়ে দীর্ঘ অবকাশ পবিত্র রমজান, ঈদ‑উল‑ফিতর এবং স্বাধীনতা দিবসের সময়, যা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত চলবে, অর্থাৎ ২৬ দিন ধারাবাহিক ছুটি।

এই সংশোধিত তালিকা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়‑১ অধিশাখা থেকে যুগ্মসচিব রেবেকা সুলতানা ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অনুমোদিত হয়েছে। শিক্ষাবর্ষ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং বছরের শুরুতেই ছুটির সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনার মানোন্নয়ন ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সহজ হয়।

প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন ৫ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন ১৭ আগস্ট থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত, আর তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন ১ ডিসেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। এছাড়া প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার সময় ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর, এবং ফলাফল প্রকাশ ৩১ ডিসেম্বর নির্ধারিত হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির মধ্যে পবিত্র ঈদ‑উল‑আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের জন্য ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিন এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৮ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিন ছুটি থাকবে। বছরের শেষের দিকে যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন ও শীতকালীন অবকাশের জন্য ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দিনের ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।

মাঘি পূর্ণিমা, শবে‑বরাত, বাংলা নববর্ষ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ও বিজয় দিবসসহ অন্যান্য ধর্মীয় ও জাতীয় ছুটিগুলোর জন্যও সাধারণ ছুটি থাকবে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার পরিদর্শন বা সংবর্ধনা উপলক্ষে বিদ্যালয় বন্ধ করা যাবে না, এবং সংবর্ধিত ব্যক্তির সম্মানে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তবে ভর্তি কার্যক্রম বা জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ছুটির দিনেও বিদ্যালয় খোলা রাখা যাবে। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর এবং বাংলা নববর্ষের মতো জাতীয় দিবসগুলোকে সকল বিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় উদযাপন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন ছুটির সূচি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করতে সহায়তা করবে। উদাহরণস্বরূপ, রমজান ও ঈদ‑উল‑ফিতরের সময় পরিবারিক সমাবেশের সঙ্গে সঙ্গে পড়াশোনার পুনর্বিন্যাস করা সম্ভব হবে, আর গ্রীষ্মের ছুটিতে শিক্ষার্থীরা গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প বা দক্ষতা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবে।

শিক্ষাপঞ্জিতে নির্ধারিত মূল্যায়নের সময়সূচি শিক্ষকদের জন্যও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়। প্রথম প্রান্তিকের পরে শিক্ষার্থীরা প্রথম পর্যায়ের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল বিষয়গুলোতে মনোযোগ দিতে পারবে, আর তৃতীয় প্রান্তিকের পর ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চশিক্ষা বা বৃত্তি প্রস্তুতির জন্য সময় থাকবে।

বছরের শেষের দিকে নির্ধারিত ছুটির সময় শিক্ষার্থীরা শীতকালীন ছুটিতে পাঠ্যবহির্ভূত কার্যক্রম, যেমন বইমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা স্বেচ্ছাসেবী কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে, যা সামগ্রিক বিকাশে সহায়ক। একই সঙ্গে, বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই সময়কে ব্যবহার করা সম্ভব, ফলে ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এই তালিকায় উল্লেখ করেছে যে, কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বা বিশেষ শিক্ষামূলক প্রয়োজনের জন্য বিদ্যালয়গুলোকে নমনীয়ভাবে পরিচালনা করা হবে। ফলে, শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শিক্ষা ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ প্রতিবেদক হিসেবে, এই সূচি শিক্ষার্থীর পরিবারকে পূর্ব পরিকল্পনা করতে সহায়তা করবে। ছুটির দিনগুলোকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানো এবং পরিবারিক সময়কে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

**ব্যবহারিক টিপ:** ছুটির আগে প্রতিটি পরিবারে একটি ছোট পরিকল্পনা তৈরি করুন—কোন দিনগুলোতে বিশ্রাম, কোন দিনগুলোতে পুনরায় পড়াশোনা, এবং কোন দিনগুলোতে অতিরিক্ত কার্যক্রম। এভাবে ছুটির সময়কে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগিয়ে শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যাবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments