হ্যালি বেরি এবং হলি জেটার যৌথভাবে প্রতিষ্ঠিত হ্যালি-হলি প্রোডাকশন, এনবিএ তারকা স্টিফেন কারি ও এরিক পেটনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা আনিমাস মিডিয়ার সঙ্গে প্রথম-দৃষ্টিকোণ আনস্ক্রিপ্টেড চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি দু’টি কোম্পানির কন্টেন্ট সহযোগিতা জোরদার করবে এবং নতুন প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবে।
হ্যালি-হলি মূলত স্ক্রিপ্টেড চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন সিরিজে কাজ করলেও, এই চুক্তি তাদেরকে আনস্ক্রিপ্টেড জগতে প্রবেশের সুযোগ দেবে। আনিমাস মিডিয়া, যা স্টিফেন কারি ও এরিক পেটন প্রতিষ্ঠা করেছেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও রিয়ালিটি শো উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করেছে।
চুক্তির অধীনে, আনিমাস মিডিয়ার চিফ কন্টেন্ট অফিসার শার্লা সাম্পটার-ব্রিজেট, হ্যালি-হলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন। শার্লা উভয় দলের সৃজনশীল দিকনির্দেশনা সমন্বয় করে নারী-নেতৃত্বাধীন গল্পগুলোকে সব শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
দুই কোম্পানি একসাথে এমন কন্টেন্ট তৈরি করতে চায় যা নারীর শক্তি, সৃজনশীলতা এবং স্থিতিস্থাপকতাকে কেন্দ্র করে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কম প্রতিনিধিত্বপ্রাপ্ত নারীর গল্পগুলোকে বৃহত্তর পর্দায় তুলে ধরা হবে এবং দর্শকদের নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করা হবে।
হ্যালি-হলির জন্য এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, কারণ এটি তাদের স্ক্রিপ্টেড থেকে আনস্ক্রিপ্টেড শাখায় প্রথম পদক্ষেপ। পূর্বে তারা প্রধানত ফিচার ফিল্ম ও টিভি সিরিজে মনোযোগ দিত, তবে এখন তারা রিয়ালিটি ও ডকুমেন্টারি ফরম্যাটে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।
আনিমাস মিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা স্টিফেন কারি এবং এরিক পেটন চুক্তি সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে এই সহযোগিতা উভয় পক্ষকে নতুন গল্পের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে এবং কম শোনার সুযোগ পাওয়া নারীর কণ্ঠকে শোনাতে সহায়তা করবে।
হ্যালি বেরিও এই অংশীদারিত্বকে তার ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক বিকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, উভয় দলই সৃজনশীলতা ও সাহসিকতার ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, এবং আনস্ক্রিপ্টেড ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করা তাদের বহুমুখী দক্ষতার স্বাভাবিক সম্প্রসারণ।
স্টিফেন কারি সম্প্রতি আনিমাস মিডিয়াকে স্ক্রিপ্টেড প্রোগ্রামিংয়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা জানিয়েছেন। তার নেতৃত্বে কোম্পানি বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট উৎপাদন করছে, যার মধ্যে অ্যানিমেটেড ফিচারও অন্তর্ভুক্ত।
এই মাসে আনিমাস মিডিয়া ‘গোয়াট’ নামের মূল অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র মুক্তি দিয়েছে, যা কারির ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রটি তার সৃষ্টিশীল দিককে তুলে ধরে এবং দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
ক্যারি এক সাক্ষাৎকারে আনিমাসের বিকাশের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোম্পানি শুরুর দিন থেকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে পূর্বে অধিকাংশ কন্টেন্ট তার ব্যক্তিগত গল্পের উপর ভিত্তি করে ছিল, তবে এখন তা বিস্তৃত থিমে প্রসারিত হয়েছে।
হ্যালি-হলি ও আনিমাস মিডিয়ার এই নতুন চুক্তি উভয় প্রতিষ্ঠানের জন্য কন্টেন্টের বৈচিত্র্য বাড়াবে এবং নারীর দৃষ্টিকোণকে প্রধানধারায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে উভয় দল একাধিক প্রকল্পে একসাথে কাজ করার পরিকল্পনা করছে, যা দর্শকদের জন্য নতুন এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা তৈরি করবে।
এই সহযোগিতা বিনোদন শিল্পে নারীর গল্পকে সমর্থন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি একত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করবে।



