ডেনি অ্যাভিদজা, পোর্টল্যান্ড ট্রেইলব্লেজার্সের ইসরায়েলি ফরোয়ার্ড, ২০২৬ সালের এনবিএ অল-স্টার গেমে নির্বাচিত হয়ে ইহুদি বাস্কেটবলের ইতিহাসে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছেন। রবিবার রাতের এনবিসি সম্প্রচারে তিনি বিশ্ব দলকে প্রতিনিধিত্ব করে আট মিনিটে পাঁচ পয়েন্ট এবং দুই অ্যাসিস্ট যোগ করেন, যা লেব্রন জেমসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ইহুদি বাস্কেটবলের শিকড় ২০শ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌঁছায়, যখন ডলফ শেইস ১৯৫১ সালে প্রথম ইহুদি খেলোয়াড় হিসেবে অল-স্টার গেমে উপস্থিত হন। শেইসের দুই-হাতের জাম্প শট এবং দ্রুত ড্রাইভ তাকে ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার ফরোয়ার্ড থেকে লিগের সুপারস্টার করে তুলেছিল। তিনি পরবর্তী একারোটি অল-স্টার গেমে অংশ নেন, যা তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের প্রমাণ।
শেইসের আগে, ইহুদি খেলোয়াড়রা কলেজ বাস্কেটবলে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছিল। ১৯৩৪ সালে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি ও সিটি কলেজ অফ নিউইয়র্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দশজন স্টার্টারদের মধ্যে নয়জনই ইহুদি ছিলেন; এই ম্যাচটি নিউজউইক এবং দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের হেডলাইনেও উঠে আসে, যা তখনকার বাস্কেটবলের জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করে।
শহরের ঘনবসতিপূর্ণ পাড়া-প্রতিবেশে নতুন অভিবাসী ইহুদি সম্প্রদায় বাস্কেটবলকে সামাজিক সংযোগের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করে। তারা ইস্ট কোস্ট জুড়ে ভ্রমণকারী দল গঠন করে, যা খেলাটিকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সময়ে বাস্কেটবল ও ইহুদি-আমেরিকান পরিচয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শহর থেকে উপশহরে স্থানান্তরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাস্কেটবলের ধারা পরিবর্তিত হলেও, ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে এই খেলাটির প্রতি আগ্রহ কমেনি। আজও স্কুলের মাঠে, রিক্রিয়েশনাল লিগে এবং পরিবারিক সমাবেশে বাস্কেটবলকে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া হিসেবে দেখা যায়।
ডেনি অ্যাভিদজা শেইসের উচ্চতা ও গতি পুনরায় জীবন্ত করে তুলেছেন। একই ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার তিনি দ্রুত ড্রাইভ এবং বহুমুখী খেলা দিয়ে নিজের নাম তুলে ধরেছেন। এই মৌসুমে তিনি গড়ে ২৫ পয়েন্ট, ৭ রিবাউন্ড এবং ৭ অ্যাসিস্ট সংগ্রহ করছেন, যা তাকে ফ্যান ভোটে পঞ্চম স্থান এনে দিয়েছে; তার পেছনে ভিক্টর ওয়েমব্যানিয়ামা ও কেন ভি ডুরান্টের মতো সুপারস্টার রয়েছে।
অল-স্টার গেমে অ্যাভিদজার অংশগ্রহণ ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশাল গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। সামাজিক মিডিয়ায় এবং পরিবারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তার পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা গুঞ্জর করে। “গত রাতে সে যা করল, তা বিশ্বাস করা কঠিন!” এমন মন্তব্যগুলো গেমের পরপরই শোনা যায়।
এই গর্বের মুহূর্তটি স্পাইক লি’র মতো চলচ্চিত্র নির্মাতার দৃষ্টিতে পৌঁছেছে কি না স্পষ্ট নয়, তবে তিনি বাস্কেটবলের গভীর অনুরাগী হিসেবে কিছুটা জানেন বলে ধারণা করা যায়। লি’র সাম্প্রতিক কাজগুলোতে স্পোর্টস সংস্কৃতির প্রতি তার আগ্রহ প্রকাশ পেয়েছে, তাই এই ঘটনাটিও তার নজরে পড়তে পারে।
ডেনি অ্যাভিদজার সাফল্য ইহুদি বাস্কেটবলের দীর্ঘ ইতিহাসের ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচিত হয়। শেইসের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত, ইহুদি খেলোয়াড়রা লিগে নিজেদের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন এবং নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছেন।
ইতিহাসের এই নতুন অধ্যায়টি ভবিষ্যতে আরও ইহুদি তরুণদের বাস্কেটবলে উজ্জ্বল হওয়ার পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা যায়। বর্তমান মৌসুমে অ্যাভিদজার পারফরম্যান্স ইতিমধ্যে বহু তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য রোল মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং তার অল-স্টার উপস্থিতি ইহুদি ক্রীড়া ঐতিহ্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ইহুদি বাস্কেটবলের গর্বের এই মুহূর্তটি কেবল এক খেলোয়াড়ের সাফল্য নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের দীর্ঘকালীন সংগ্রাম ও সাফল্যের প্রতিফলন। ডেনি অ্যাভিদজা এবং ডলফ শেইসের মতো নামগুলো ভবিষ্যতে আরও অনেকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।



