চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে‑অফের প্রথম লেগে নিউক্যাসল ৬-০ স্কোরে কারাব্যাগকে পরাজিত করেছে। গর্বান গর্বানভের পূর্বাভাসের বিপরীতে, তার দল গতি ও আক্রমণাত্মক চাপের সামনে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।
কারাব্যাগের কোচ গর্বান গর্বানভের “আমাদের সঙ্গে মানানসই নয়” মন্তব্যটি ম্যাচের আগে মানসিক কৌশল হিসেবে দেখা হয়েছিল, তবে অর্ধঘণ্টার মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তার দল গতি ও তীব্রতায় অপ্রস্তুত।
নিউক্যাসলের ইংলিশ উইংার অ্যান্থনি গর্ডন চারটি গোলের মাধ্যমে ম্যাচের প্রধান নায়ক হিসেবে উজ্জ্বলতা দেখিয়েছেন। এই চারটি গোলের ফলে গর্ডনের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মৌসুমের মোট গোলসংখ্যা দশে পৌঁছেছে।
ম্যাচে উপস্থিত ১,৯৯৮ নিউক্যাসল সমর্থক ইস্তাম্বুল ও ওয়ারশো সহ বিভিন্ন শহর থেকে পরোক্ষ ফ্লাইটে এসে ক্যাস্পিয়ান সাগরের তীরে অবস্থিত টোফিক বাহ্রামভ রিপাবলিকান স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। দীর্ঘ যাত্রা সত্ত্বেও তাদের উচ্ছ্বাস অবিচল রইল।
ইংল্যান্ডের টাইনসাইড থেকে ছয় ঘণ্টার ফ্লাইটের পরেও দলটি জেট‑ল্যাগের কোনো লক্ষণ দেখায়নি। মোট ২,৫২৯ মাইলের এই দূরত্ব ইংলিশ দলগুলোর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ দূরত্বের সফর হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।
খেলাটির সূচনা থেকেই ড্যান বার্নের আক্রমণাত্মক চালনা লক্ষ্যণীয় ছিল। ডিফেন্স থেকে বেরিয়ে তিনি গর্ডনের দিকে নিখুঁত পাস দিলেন, যা প্রথম গোলের সূচনা করল।
গর্ডনকে কেন্দ্র‑ফরোয়ার্ডে স্থাপন করা হয়েছিল, আর নিক ওলটেমেডে নম্বর ১০ পজিশনে খেলেছেন। উভয়ের সমন্বয় এবং দ্রুত পাসিং গতি দলকে ধারাবাহিকভাবে গোলের সুযোগ তৈরি করতে সাহায্য করেছে।
ইডি হাওয়ের নেতৃত্বে দলটি সাম্প্রতিক সপ্তাহের সমস্যাগুলো সত্ত্বেও বাখুতে একটি শীতল স্পা ভ্রমণের মতো রিফ্রেশিং পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। উচ্চ তীব্রতার প্রেস এবং শারীরিক খেলায় তাদের আধিপত্য স্পষ্ট ছিল।
কারাব্যাগের পূর্বের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ পারফরম্যান্সে বেনফিকা, আইনের ট্রাখ্ট ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং এফসি কোপেনহেগেনের বিরুদ্ধে জয় অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে নিউক্যাসলের তীব্র আক্রমণ তাদের সামনে ভেঙে পড়ে।
ম্যাচের শেষ পর্যন্ত নিউক্যাসলের আক্রমণাত্মক শৈলী, দ্রুত পাস এবং উচ্চ চাপের কৌশল কারাব্যাগের প্রতিরক্ষা ভেঙে দেয়। দলটি শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং দ্রুতগতির খেলায় প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম হয়েছে।
এই জয় নিউক্যাসলের প্লে‑অফের দ্বিতীয় লেগের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। পরবর্তী ম্যাচে দলটি কীভাবে পারফর্ম করবে তা এখনো দেখা বাকি, তবে প্রথম লেগের ফলাফল ইতিমধ্যে তাদের অগ্রগতি নিশ্চিত করেছে।
সারসংক্ষেপে, নিউক্যাসল বাখুতে গর্ডনের চার গোলসহ মোট ছয় গোলের মাধ্যমে কারাব্যাগকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬ টিতে প্রবেশের পথে এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে।



