কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায়, বলদিয়া ইউনিয়নের মিলনি বাজারে রাত ৩:৩০ টার দিকে সিসি ক্যামেরায় একটি অদ্ভুত চলমান বস্তু ধরা পড়ে। ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, চারটি পা বিশিষ্ট, কুকুরের মতো আকারের রোবট‑সদৃশ কিছু দ্রুত রাস্তার এক পাশ থেকে অন্য পাশে অতিক্রম করছে। একই সময়ে একটি মোটরসাইকেলও উচ্চ গতিতে গমন‑প্রস্থান করে।
বাজারের আলাউদ্দিন ইলেকট্রনিক্স ও হার্ডওয়্যার দোকানের মালিক রোকনুজ্জামান রোকন জানান, পূর্বে চুরি ঘটার পর নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। তিনি এবং তার ছোট ভাই রাত্রিকালীন ফুটেজ পর্যালোচনা করার সময় রোবটের চলাচল লক্ষ্য করেন এবং তা ফেসবুকে শেয়ার করেন।
পাশের মুদি দোকানদার নূর মোহাম্মদ মিয়া রাত্রে অজানা শব্দ শোনার পর টিনের ফাঁক দিয়ে আলো জ্বালিয়ে বস্তুটি লাফাতে লাফাতে চলতে দেখেন। তিনি চারটি পা বিশিষ্ট রোবটকে দেখে ভয় পেয়ে শুয়ে পড়েন, এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যে একই পথে একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেলও অতিক্রম করে।
বাজার কমিটির সভাপতি শুকুর আলী উল্লেখ করেন, বাজারটি সীমান্ত থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং ভারতীয় কোনো রোবটের প্রবেশের সম্ভাবনা কম। তবে রোবটের উৎস ও উদ্দেশ্য জানার জন্য তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে আতঙ্ক প্রকাশ করেন।
বুধবার বিকেলে বিজিবি (Bgb) ও পুলিশ (Police) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। কচাকাটা থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র জানান, বিষয়টি বর্তমানে তদন্তের অধীনে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। ২২ ব্যাটালিয়ন বিজিবি (Bgb) এর অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল মাহাবুব উল হকও রোবটের প্রবেশের সম্ভাবনা অস্বীকার করে, বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল শামীম কামাল রোবটটি ব্যক্তিগত বা নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো ডিভাইস হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে রোবটটি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করছে না, তবে এর প্রযুক্তিগত দিক ও ব্যবহারিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকায় সতর্কতা বজায় রাখা দরকার।
এই ঘটনার পর বাজারের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা রোবটের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কিছু লোক এটিকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উদাহরণ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা অজানা যন্ত্রের সম্ভাব্য নিরাপত্তা প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফলাফল রোবটের প্রকৃত স্বরূপ ও উৎস নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের এই সীমান্তবর্তী বাজারে রোবটের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি প্রযুক্তি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সংযোগকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার সুযোগ দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এধরনের স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার স্থানীয় বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চালু রয়েছে।



