মেহেরপুর জেলা জজ আদালতে বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে এক অপরাধ সংঘটিত হয়, যেখানে বিচারকের দিকে পাথর নিক্ষেপ করা হয় এবং সন্দেহভাজনকে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ গ্রেফতার করে। ঘটনাটি আদালতের চলমান শুনানির মাঝখানে ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিচারিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।
সকালবেলা আদালতের কক্ষের জানালার কাচ হঠাৎ ভেঙে যায়, তৎপরই একটি পাথর এজলাস কক্ষে পড়ে। সূত্র অনুসারে পাথরটি আদালতের বাহিরের বারান্দা থেকে জোরে ছুঁড়ে আনা হয় এবং কাচ ভেঙে বিচারকের নিকটবর্তী স্থানে নেমে আসে।
পাথরটি বিচারকের সামনে পড়ে, ফলে উপস্থিত সকলের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়। কক্ষের বাইরে প্রহরী হিসেবে থাকা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাথর নিক্ষেপকারীকে আটক করে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন আটক শরীফ, যিনি মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকায় বসবাস করেন এবং মৃত রেজাউল করিমের পুত্র। তার পরিচয় নিশ্চিত করার পর তাকে আদালতের হজতখানায় স্থানান্তর করা হয়।
অভিযুক্তকে বিচারকের সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি স্বীকারোক্তি দেন যে, তিনি ইসলামিক নীতি অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। তিনি চলমান বিচার ব্যবস্থাকে ‘কোনো বিচার নয়’ বলে সমালোচনা করেন এবং নিজেকে শহীদ বলে দাবি করেন।
শহীদত্বের ইচ্ছা প্রকাশের পাশাপাশি তিনি জানান, ইসলামিক আদর্শ অনুসরণে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারintendent‑এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, তবে অনুমতি না পেয়ে আদালতে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে তিনি রাগে পাথর নিক্ষেপ করেন।
হজতখানায় স্থানান্তরের পর দেহ তল্লাশি করা হয় এবং তার সঙ্গে একটি খাতা ও কয়েকটি কাগজ পাওয়া যায়। ওই নথিগুলোতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্য রয়েছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাথরসহ অন্যান্য প্রমাণ জব্দ করে এবং তা ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য সংরক্ষণ করে। এছাড়া আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা মেহেরপুর সদর থানায় একটি এজাহার প্রদান করেন, যেখানে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, পাথর নিক্ষেপের ঘটনাটি ভিত্তিক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ছাড়াও, এমন কাজের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।
অধিকন্তু, আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা প্রোটোকল শক্তিশালী করার পাশাপাশি, আদালতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



