ইরানের পশ্চিমে অবস্থিত আবদানান শহরে মঙ্গলবার শোকসভার সময় নিরাপত্তা কর্মকর্তা গুলিবর্ষণ করেন, যেখানে শোকাহত পরিবার ও সমাবেশকারী ভিড়কে লক্ষ্য করে দুইটি গুলি চালানো হয়। ঘটনাটি ইরান সরকারের গত মাসে প্রতিবাদকারীদের ওপর কঠোর দমনমূলক অভিযানের শিকারের স্মরণে অনুষ্ঠিত হয়।
ইরানে মৃতের চুয়াল্লিশতম দিনকে “চাল্লিশ দিন” বলা হয় এবং এ দিনটি পরিবার ও বন্ধুজন সমবেত হয়ে মৃতকে স্মরণ করে। এই ঐতিহ্যগত অনুষ্ঠানে মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং সাধারণত সমাধিক্ষেত্রে গীত, দোয়া ও শোকের গান শোনানো হয়।
আবদানানের পাশাপাশি তেহরান, মাশহাদ ও অন্যান্য শহরে একই দিনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান উচ্চারণ করে, যার মধ্যে “মৃত্যু আমেরিকাকে” এবং “মৃত্যু খামেনেইকে” অন্তর্ভুক্ত। এই স্লোগানগুলো ইরান সরকারের নীতি ও শাসনব্যবস্থার প্রতি বিরোধিতা প্রকাশ করে।
সরকারি সংস্থা আইআরআইবি টেলিভিশন এই সমাবেশকে সরাসরি সম্প্রচার করে এবং উচ্চপদস্থ সরকারী ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদেরকে নির্দিষ্ট নৃত্য ও স্লোগান গাইতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যা ইরান সরকারের সমর্থনমূলক বার্তা বহন করে।
একটি বর্মবাহন সমাবেশের পাশে দিয়ে অতিক্রম করার সময়, একটি ইউনিফর্মধারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা গুলি চালিয়ে শোকসভার ভিড়কে লক্ষ্য করে। প্রথম শটের সময় তিনি বন্দুকটি ক্যামেরার দিকে না করে দূরে নির্দেশ করেন, তবে দ্বিতীয় শটে সরাসরি ভিড়ের দিকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রতিটি গুলির পর ধোঁয়ার ছিটা দেখা যায়।
গোলাগুলি শোনা মাত্রই উপস্থিত মানুষ চিৎকার করে পালিয়ে যায়। শুটিংয়ের পর সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত সমাধিক্ষেত্র থেকে বেরিয়ে যায় এবং আশেপাশের গলি-দ্বারগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। দুইটি গুলির শব্দ এবং ধোঁয়া দৃশ্যমান হওয়ায় ঘটনাস্থলে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়।
অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির পর ধোঁয়া দূরে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ দ্রুত দৌড়ে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দ পুনরায় শোনা যায় এবং শুটিংয়ের পর সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে দৌড়ে যায়।
রাষ্ট্রের মালিকানাধীন আইআরআইবি নিউজ সংস্থা ঘটনাটিকে শান্তিপূর্ণ বলে জানিয়ে দেয় এবং কোনো আহত বা মৃতের খবর নেই বলে দাবি করে। তবে现场ের ভিডিও ও শুটিংয়ের শব্দের ভিত্তিতে এই দাবি বিরোধপূর্ণ দেখা যায়।
ভিডিওর পটভূমিতে একটি বিলবোর্ড দেখা যায়, যেখানে আবদানানের কিশোর আলিরেজা সেডি’র ছবি রয়েছে। আলিরেজা সেডি গত মাসে তেহরানে ঘটিত প্রতিবাদে নিহত হয়েছিলেন এবং আজকের সমাবেশে তার স্মরণে তাকে সম্মান জানানো হয়।
সপ্তাহের পর সপ্তাহে ইরানে সরকারবিরোধী প্রতিবাদ শেষ না হয়ে চলেছে; দেরি ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন জনসাধারণের অসন্তোষ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদ হিসেবে গড়ে উঠেছে। ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দমনের পর হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে।
এই ঘটনার পর ইরান সরকারের নিরাপত্তা নীতি ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সমালোচনা বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তার গুলিবর্ষণ এবং সমাবেশে সরকারী স্লোগান চালু থাকা, উভয়ই ইরান সরকারের কঠোর দমন নীতি ও প্রতিবাদকারীদের অধিকার সংরক্ষণের মধ্যে তীব্র সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংলাপকে সামঞ্জস্য করবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে।



