20 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক, পজিটিভ হলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে অযোগ্যতা

ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক, পজিটিভ হলে সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে অযোগ্যতা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার নতুন বিধিমালা জারি করে, যা সরকারি, আধা‑সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগের আগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করে। একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা, যানবাহন চালনার লাইসেন্স, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়ায়ও এই পরীক্ষা প্রযোজ্য হবে।

বিধিমালার শিরোনাম “জৈব নমুনায় মাদকদ্রব্য শনাক্তকরণ (ডোপ টেস্ট) বিধিমালা ২০২৬” এবং এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পরীক্ষায় পজিটিভ ফলাফল পাওয়া প্রার্থীর ক্ষেত্রে চাকরির জন্য অযোগ্যতা নির্ধারিত হবে।

যদি কোনো কর্মী ইতিমধ্যে চাকরিতে নিযুক্ত থাকাকালীন মাদকাসক্তি শনাক্ত হয়, তা ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিধিমালায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাদকাসক্তি শনাক্ত হওয়ার পর নির্ধারিত চিকিৎসা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং শাস্তির আওতায় থাকবে।

নতুন নিয়মের আওতায় ডোপ টেস্টের ব্যবহার কেবল সরকারি চাকরিতে সীমাবদ্ধ নয়; বেসরকারি সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়া, গাড়ি চালনার লাইসেন্সের প্রদান ও নবায়ন, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, এবং বিদেশে কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে।

এছাড়া, স্থলযানের পাশাপাশি নৌযান ও আকাশযানের চালকদের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য হবে, যা দেশের সব ধরনের পরিবহন সেবায় মাদকের ব্যবহার রোধে সহায়তা করবে।

ডোপ টেস্টের তদারকি ও বাস্তবায়নের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সভাপতি করে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সিআইডির ফরেনসিক ডিআইজি, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অন্তর্ভুক্ত।

ল্যাবরেটরি ও ডেটাবেসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ করা হবে, এবং সিসি ক্যামেরা ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হবে। পরীক্ষার ফলাফল একটি সুরক্ষিত ডিজিটাল ডেটাবেসে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে তথ্যের অখণ্ডতা বজায় থাকে।

বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো কর্মকর্তা যদি দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে বা তথ্য ফাঁসের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পূর্বে কিছু প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্রভাবে ডোপ টেস্ট চালু করলেও, গেজেটের মাধ্যমে বিধিমালা জারি হওয়ায় এখন সব ক্ষেত্রেই এটি বাধ্যতামূলক হবে। ফলে মাদকের অপব্যবহার রোধে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে উঠবে।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকের প্রবেশদ্বার বন্ধ হবে এবং সমাজে মাদকের বিস্তার কমে যাবে।

বাংলাদেশ সরকার এখন থেকে এই বিধিমালার কার্যকরী পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে, এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্দেশ দেবে। ভবিষ্যতে কোনো আইনি আপত্তি বা চ্যালেঞ্জ উদ্ভূত হলে, তা যথাযথভাবে সমাধান করা হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments