বুধবার রাতের প্রথম কর্মদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শপথ গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে একটি ব্যাপক ভাষণ উপস্থাপন করেন। তিনি নতুন সরকারের তাত্ক্ষণিক অগ্রাধিকার তুলে ধরে নিরাপত্তা ও শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে শীর্ষ লক্ষ্য ঘোষণা করেন। এই বক্তৃতা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওতে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়, যা শপথের পরের প্রথম কর্মদিবসে জনগণের কাছে পৌঁছায়।
রহমান জোর দিয়ে বলেন, যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, যারা দেননি, অথবা কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করেননি, তাদের সকলেরই সমান সংবিধানিক অধিকার থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের মালিকানা কোনো একক গোষ্ঠীর নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশি জাতির। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সব ভোটারকে সমানভাবে সুরক্ষিত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপকে সরকারের মূল নীতি হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধী গোষ্ঠী ও অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে তীব্রতর করে কাজ করতে হবে। বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্রুততা এবং পুলিশিংয়ের উন্নয়নকে তিনি নিরাপত্তা বৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব সংবিধানিক, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বিধি অনুসারে পরিচালনা করা হবে, তিনি জোর দেন। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা জবরদস্তি কোনো সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারবে না, এটাই শাসনের মৌলিক নীতি হবে। শেষ পর্যন্ত, রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব থাকবে আইনের শাসনে।
গ্যাম্বলিং ও মাদকের বিস্তারকে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা হ্রাসের প্রধান কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি আরোপের নির্দেশ দেন। বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে গ্যাং ও মাদক চক্র ভাঙার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবে, তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। রাস্তায় আলোর ব্যবস্থা, কমিউনিটি পলিসিং এবং জরুরি সেবার দ্রুততা বাড়াতে বাজেট বরাদ্দ করা হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে কোনো ঘটনার পূর্বাভাসে কাজ করা হবে। এভাবে পরিবার ও ব্যবসার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
রমজান মাসের সূচনা উপলক্ষে তিনি জাতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই মাস আত্মশুদ্ধির সময়, যা সৎভাবে পালন করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু ব্যবসায়ী এই সময়ে মুনাফা বাড়ানোর প্রবণতা দেখায়, যা সমাজের নৈতিকতা ক্ষুন্ন করে। তাই, এই পবিত্র মাসে ভোগান্তি বাড়ানো উচিত নয়, বরং আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়া দরকার।
ব্যবসায়ীদেরকে মৌলিক পণ্যের দাম বাড়িয়ে না নেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সকলের দায়িত্ব, এবং কোনো অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টাকে কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে দাম নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করতে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তৃতার শেষ অংশে তিনি সম্প্রতি ধ্বংস হওয়া একটি মাফিয়া সিন্ডিকেটের উল্লেখ করেন, যা হাজারো প্রাণের ক্ষতি করেছিল। এই সফল অপারেশনকে রাষ্ট্রের নাগরিকের অধিকার রক্ষার দৃঢ় সংকল্পের উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ভবিষ্যতে অনুরূপ হুমকি নির্মূলের জন্য সরকার অব্যাহতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
অবশেষে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সব রাজনৈতিক দলকে আইনের সুরক্ষায় স্বাধীনভাবে প্রচার চালানোর অনুমতি থাকবে। নিরাপত্তা, দুর্নীতি বিরোধী নীতি এবং সমান শাসনের মাধ্যমে একটি বিশ্বাসযোগ্য ভোটিং পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পরবর্তী মাসগুলোতে প্রভাবিত করবে।



