নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মব কালচার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানালেন। শপথ গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে তিনি এই ঘোষণাটি দিলেন, যেখানে দাবি আদায়ের নামে হিংসাত্মক আক্রমণকে আর অনুমোদন করা হবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বিকেল তিনটায় মন্ত্রীর শপথের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান হলের দরজা খুলে, কর্মকর্তারা ফুলের ঝুড়ি ও গার্ড অব অনার প্রদান করে স্বাগত জানালেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে মন্ত্রীর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় গঠনের প্রতিশ্রুতি শোনাতে শোনালেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি জোর দিয়ে বললেন, “মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেওয়া যাবে। আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।” এই কথা থেকে স্পষ্ট যে, আইনসঙ্গত প্রতিবাদ ও সমাবেশের অধিকার রক্ষা করা হবে, তবে হিংসা ও অশান্তি আর সহ্য করা হবে না।
পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে মন্ত্রীর মন্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করে বলেন, “পুলিশকে জনগণের বন্ধু বানাতে হবে। পুলিশের যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করতে হবে।” এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জনমত উন্নয়নে গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে তিনি দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ গঠনের কথা পুনরায় জোর দেন। “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কোনো প্রকার অবৈধ তদবির চলবে না। বিভিন্ন বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” তিনি বলেন। এই ঘোষণার মাধ্যমে মন্ত্রীর লক্ষ্য হল সকল স্তরের কর্মকর্তাকে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার মানদণ্ডে কাজ করতে বাধ্য করা।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সভায় মন্ত্রীর পরিকল্পনা ও নীতি সম্পর্কে প্রশ্নোত্তর সেশনও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
মব কালচার বন্ধের এই ঘোষণার রাজনৈতিক প্রভাবও বিশাল। দাবি আদায়ের জন্য বৈধ সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হলে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মধ্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও আলোচনা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। একই সঙ্গে হিংসাত্মক আক্রমণ বন্ধের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পুলিশের জনমত পুনর্গঠন ও দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় গঠনের প্রতিশ্রুতি সরকারকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নতুন মানদণ্ডে নিয়ে যাবে। এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ত্বরিত পদক্ষেপ এবং পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া গঠন করা প্রয়োজন।
সারসংক্ষেপে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মব কালচারকে শেষ করার ঘোষণা দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে চালিত করার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। ভবিষ্যতে এই নীতি কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং তার ফলাফল কী হবে, তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।



