22 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতীয় স্বার্থ ও রোহিঙ্গা নীতি সম্পর্কে বিবৃতি

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের জাতীয় স্বার্থ ও রোহিঙ্গা নীতি সম্পর্কে বিবৃতি

ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপাল সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানালেন যে, দেশের স্বার্থকে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এই সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল দিক ও অভ্যন্তরীণ সমালোচনার উত্তরও প্রদান করেন।

বৈঠকের সময় দু’দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, নেপাল সরকারের সঙ্গে সম্পর্ককে সমতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে তোলা হবে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী হবে। তিনি এ কথায় জোর দেন যে, কোনো পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে আপস করা হবে না।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্র্যাট কোটার নিয়োগ এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে উত্থাপিত সমালোচনার প্রতি তিনি কঠোর সাড়া দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজের ইচ্ছা বা কোনো জোরপূর্বক প্রক্রিয়ায় মন্ত্রী হননি, এবং যারা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলছেন, তারা পুনরায় ভোট গণনা করে ফলাফল যাচাই করতে পারেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিএনপি কর্তৃক তার পদত্যাগের দাবি উত্থাপনের পর ড. খলিলুর রহমান মন্তব্য করেন, সময়ের সাথে অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি পূর্বের তুলনায় ভিন্ন। তিনি অতীতের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করে বর্তমান সরকারের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

ড. খলিলুর রহমান আরও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির পথে ফিরে যেতে চায়, যেখানে “সবার আগে বাংলাদেশ” নীতি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে সকল দেশের সঙ্গে সমতা বজায় রাখার লক্ষ্য রাখে।

জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি বললেন, কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আপসের কোনো জায়গা নেই।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান জানান, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির সঙ্গে সংলাপ বাড়িয়ে সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন, সরকার দ্রুত ও কার্যকরী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই সময়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বার্থ রক্ষা করা বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নীতি দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা উভয়ই নিশ্চিত করবে।

ড. খলিলুর রহমানের বক্তব্যের পর নেপাল সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষই সমঝোতা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের সমাপ্তিতে উভয় দেশই বিভিন্ন ক্ষেত্রের সহযোগিতা বাড়াতে, বিশেষ করে বাণিজ্য, পর্যটন ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সমন্বিত কাজের পরিকল্পনা তৈরি করতে সম্মত হয়। ড. খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনাই দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সারসংক্ষেপে, ড. খলিলুর রহমানের এই বিবৃতি বাংলাদেশ সরকারের আন্তর্জাতিক নীতি, নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের স্বার্থে কোনো আপস হবে না এবং সব দেশের সঙ্গে সমতা বজায় রেখে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে।

৯০/১০০ ২টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাকবিডিনিউজ২৪
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments