আজ ইরানের রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে পারান্দ অঞ্চলে বিশাল কালো ধোঁয়ার স্তূপ দেখা গেছে, যা শহরের দক্ষিণ‑পশ্চিমে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার কাছাকাছি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের সম্ভাবনা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ধোঁয়ার উত্সের দিকে নজর দিলে পারান্দ নদীর তীরবর্তী ঘন ঝোপঝাড় ও নলখাগড়ার বনে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি এই তথ্য প্রকাশ করে, যেখানে পারান্দ ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট বর্তমানে আগুন নেভাতে কাজ করছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ অগ্নিকাণ্ডকে সাধারণ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে ব্যাখ্যা করে, কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা সশস্ত্র হামলার ইঙ্গিত না থাকায় তা অস্বীকার করে। তেহরান শহর প্রশাসনের মতে, ঘটনাস্থলে কোনো ধরণের নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটেনি এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পারান্দ শহর তেহরানের দক্ষিণ‑পশ্চিমে অবস্থিত এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবকাঠামো রয়েছে। এই সংবেদনশীল অবস্থানই অগ্নিকাণ্ডকে কিছু বিশ্লেষকের কাছে সম্ভাব্য আক্রমণ বা ধ্বংসাত্মক কাজের অংশ হিসেবে দেখার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন কূটনীতিকের মতে, পারান্দের নিকটবর্তী সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক নজরে রয়েছে এবং কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার ফলে অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোতে চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সরকার ইরানের সঙ্গে বৃহৎ সামরিক সংঘাতের দিকে অগ্রসর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যদি পারমাণবিক আলোচনার ফলাফল অনুকূল না হয়, তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
মার্কিন সরকার ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী, শত শত যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। এই সামরিক উপস্থিতি অঞ্চলটির কৌশলগত ভারসাম্যকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি ইরানের নিরাপত্তা নীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টার বার্তা অনুযায়ী, পারমাণবিক আলোচনার চূড়ান্ত ব্যর্থতা ঘটলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এই সম্ভাবনা ইরানের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করছেন, যদি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় এবং সামরিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়, তবে তা কয়েক সপ্তাহব্যাপী বৃহৎ সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা অঞ্চলগত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গভীর প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে ইরান সরকার অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃতি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে চায় এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো লঙ্ঘন না ঘটার বিষয়টি জোর দিয়ে বলছে। তবু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পারান্দের নিকটবর্তী সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে।
পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে পারমাণবিক আলোচনার অগ্রগতি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান এবং ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে সমন্বয় করবে, তা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিবেশের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



