22 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানমাছ ও স্যালাম্যান্ডারের অঙ্গ পুনর্জন্মের সাদৃশ্যপূর্ণ কোষীয় প্রক্রিয়া উন্মোচিত

মাছ ও স্যালাম্যান্ডারের অঙ্গ পুনর্জন্মের সাদৃশ্যপূর্ণ কোষীয় প্রক্রিয়া উন্মোচিত

লুইসিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি, ব্যাটন রুজে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, স্যামন বীচির (Senegal bichir) এবং অ্যাক্সোলটল উভয়েরই অঙ্গ পুনর্জন্মে একই ধরনের জেনেটিক ও কোষীয় প্রক্রিয়া কাজ করে। গবেষক দল বীচিরের পাখনা কেটে ক্ষতস্থলে এক, তিন এবং সাত দিনের মধ্যে জিনের সক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ করে, একই সময়ে অ্যাক্সোলটলের ডেটার সঙ্গে তুলনা করেছে।

স্যামন বীচিরকে প্রায়শই “বেঁচে থাকা ফসিল” বলা হয়, কারণ এর বিবর্তনীয় শিকড় আধুনিক হাড়যুক্ত মাছের পরিবার গাছের ভিত্তিতে অবস্থিত। এই মাছের সম্পূর্ণ পাখনা পুনরুদ্ধার করার ক্ষমতা তাকে অঙ্গ পুনর্জন্মের প্রাথমিক মডেল হিসেবে গুরুত্ব দেয়।

অঙ্গ পুনর্জন্মের ক্ষমতা কীভাবে উদ্ভব হয়েছে এবং কেন কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে হারিয়ে গেছে, তা বোঝার জন্য গবেষক ইগর শ্নাইডার এবং তার দল বীচিরের পুনর্জন্ম প্রক্রিয়ার বিশদ বিশ্লেষণে মনোনিবেশ করেছে। বীচিরের পাখনা কাটা হলে ক্ষতস্থলে দ্রুত রক্তকণিকা ও ইমিউন কোষের সঞ্চার দেখা যায়, যা প্রাথমিকভাবে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে কাজ করে।

প্রথম দিনেই রোগনাশক কোষগুলো ক্ষতস্থলে জমা হয়, যা মানবদেহের ক্ষত নিরাময়ের প্রাথমিক ধাপের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে বীচির এবং অ্যাক্সোলটলে এই ইমিউন প্রতিক্রিয়া দ্রুতই শান্ত হয়ে যায়, ফলে অতিরিক্ত প্রদাহ কমে এবং দাগ গঠনের সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষতস্থলে রক্তের সরবরাহ ও অক্সিজেনের প্রবাহের পরিবর্তনও পুনর্জন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বীচিরের ক্ষেত্রে রক্তনালীর পুনর্গঠন দ্রুত ঘটে, যা নতুন কোষের বৃদ্ধি ও পার্থক্যকরণকে সমর্থন করে। একই প্রক্রিয়া অ্যাক্সোলটলে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে এই প্রক্রিয়াগুলো বহু মিলিয়ন বছরের আগে থেকেই বিকশিত হয়েছে।

ডেটা বিশ্লেষণের ফলাফল দেখায়, উভয় প্রজাতিতে নির্দিষ্ট জিনের প্রকাশ বৃদ্ধি পায়, যা কোষের পুনরায় প্রোগ্রামিং ও টিস্যু পুনর্গঠনে সহায়তা করে। এই জিনগুলো হাড়যুক্ত মাছ ও উভচর উভয়েরই ডিএনএতে উপস্থিত, যা অঙ্গ পুনর্জন্মের একটি প্রাচীন জেনেটিক টুলকিটের সূচক।

এই গবেষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, অঙ্গ পুনর্জন্মের ক্ষমতা কেবল নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ভের্টিব্রেটের প্রাথমিক বিবর্তনীয় পর্যায়ে বিদ্যমান ছিল। ফলে, মানবদেহে এই ক্ষমতা কেন অদৃশ্য হয়েছে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক সম্প্রদায় এখন এই প্রাচীন টুলকিটের নির্দিষ্ট উপাদানগুলো চিহ্নিত করে, সেগুলোকে মানব কোষে সক্রিয় করার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করছে। যদিও বর্তমানে মানুষ মেরুদণ্ডের বাইরে কোনো অঙ্গ পুনরায় গঠন করতে পারে না, তবে এই ফলাফল ভবিষ্যতে পুনর্জন্মমূলক থেরাপির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সরবরাহ করতে পারে।

অবশেষে, এই গবেষণা দেখায় যে মাছ ও উভচরের মধ্যে পুনর্জন্মের প্রক্রিয়া কতটা সমন্বিত এবং কতদিন আগে থেকে বিদ্যমান। পাঠকরা যদি অঙ্গ পুনর্জন্মের সম্ভাবনা নিয়ে আরও জানতে চান, তবে জেনেটিক গবেষণা ও কোষীয় পুনঃপ্রোগ্রামিংয়ের অগ্রগতির দিকে নজর দেওয়া উচিত।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Science News
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments