22 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধলন্ডনে কিশোরী মেয়েদের উপর গ্যাংয়ের জোরপূর্বক যৌন শোষণ প্রকাশিত

লন্ডনে কিশোরী মেয়েদের উপর গ্যাংয়ের জোরপূর্বক যৌন শোষণ প্রকাশিত

লন্ডনের বিভিন্ন গ্যাং কিশোরী মেয়েদের, কখনো কখনো ১৪ বছর বয়সী, জোরপূর্বক যৌন শোষণের শিকার করে চলেছে বলে বিবিসি সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য নির্দেশ করে। গ্যাংগুলো মেয়েদেরকে মাদক ঋণ পরিশোধের জন্য বা শুধুমাত্র যৌন সেবার জন্য ব্যবহার করে, এবং তাদেরকে মাদক বিক্রি, অস্ত্রের লেনদেন ও মোবাইল ফোন চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে দেয়।

প্রতিবেদনটি লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিচালিত সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে গ্যাং-সম্পর্কিত হিংসা ও শোষণের শিকার পাঁচজন বেঁচে থাকা ব্যক্তির কথাও অন্তর্ভুক্ত। সাক্ষাৎকারে বলা হয়েছে, কিছু মেয়ে একাধিক পুরুষের দ্বারা ধর্ষণ করা হয়েছে, যা গ্যাংয়ের ঋণ পরিশোধের ‘পেমেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অন্যরা শুধু যৌন শোষণের জন্যই গ্যাংয়ের কাছে টেনে নেওয়া হয়েছে।

লন্ডনের এক পুলিশ কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, গ্যাংয়ের কাঠামোতে তরুণী ও নারীরা সর্বনিম্ন স্তরে থাকে এবং তাদেরকে সব ধরনের অপরাধে ব্যবহার করা হয়। গ্যাংগুলো মেয়েদেরকে মাদক বিক্রির কাজে ধরা দেয়, অস্ত্রের অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করে এবং ফোন চুরির মতো চুরি-চক্রান্তে নিযুক্ত করে। এসব কাজের মাধ্যমে গ্যাংগুলো তাদের আর্থিক লাভ বাড়ায় এবং শোষিত মেয়েদের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে।

গ্যাং-সম্পর্কিত শোষণ সমস্যার দৃষ্টি সাধারণত ইংল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের দিকে বেশি ঘুরে থাকে। সরকার কর্তৃক গত বছর প্রস্তুত করা একটি রিপোর্টে গ্রেটার ম্যানচেস্টার, সাউথ ইয়র্কশায়ার ও ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অঞ্চলে এশীয় বর্ণের পুরুষদের অপরাধে অতিরিক্ত অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। তবে লন্ডনে গ্যাংয়ের গঠন ও জাতিগত বৈচিত্র্য বেশি জটিল; গ্যাংগুলো সাদা, এশীয় এবং অন্যান্য বর্ণের সদস্য নিয়ে গঠিত এবং শহরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয়।

গত বছর লন্ডনের মেয়র সাদিক খান রোথারহ্যাম ও অন্যান্য় শহরে দেখা গ্যাং শোষণের কোনো স্পষ্ট চিহ্ন নেই বলে মন্তব্য করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার মুখপাত্র বিবিসিকে জানিয়েছেন, তিনি পুলিশকে সমর্থন করে শহরে সকল ধরনের শিশু যৌন শোষণ, গ্যাং শোষণসহ, মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ইচ্ছুক।

একজন শিকারী, যার নাম কেলি (প্রকৃত নাম নয়), তিনজন সাদা পুরুষের দ্বারা গ্যাংয়ের মধ্যে টেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান। প্রথমে তাকে মাদক বিক্রির কাজে জোরপূর্বক নিযুক্ত করা হয়, পরে শোষণ আরও বাড়ে এবং যৌন শোষণের মাত্রা বাড়ে। কেলি বলেন, “আমার কোনো টাকা ছিল না, আমি উপেক্ষিত বোধ করছিলাম এবং কোনোভাবে অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি পেতে চেয়েছিলাম, তাই আমি ভুল সংযোগে জড়িয়ে পড়ি এবং শীঘ্রই রাস্তার মাদকে বিক্রি শুরু করি। তবে তা শেষ পর্যন্ত যৌন শোষণে পরিণত হয়।” তার বর্ণনা থেকে দেখা যায়, অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা গ্যাং শোষণের প্রধান চালিকাশক্তি।

লন্ডন পুলিশ গ্যাং শোষণ মামলায় তদন্ত বাড়িয়ে চলেছে এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমানে কতজন গ্যাং সদস্য গ্রেফতার হয়েছে বা আদালতে হাজির হয়েছে সে সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে পুলিশ গ্যাংয়ের কাঠামো ভেঙে ফেলতে এবং শিকারী মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে।

শোষণের শিকারদের জন্য মানসিক ও শারীরিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তারা শিকারীদের জন্য গোপনীয়তা রক্ষা করে পরামর্শ, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা প্রদান করে, যাতে তারা পুনরুদ্ধারের পথে অগ্রসর হতে পারে।

বিবিসি অনুসারে, লন্ডনে গ্যাং শোষণের প্রকৃতি ও পরিধি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত সাক্ষাৎকার ও তদন্ত চালিয়ে যাবে। এই বিষয়টি জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে গ্যাং শোষণ মোকাবিলায় আরও দৃঢ় নীতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছে।

গ্যাং শোষণ সংক্রান্ত মামলায় আদালত ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরবর্তী তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে, যাতে শিকারী ও তাদের পরিবার যথাযথ সহায়তা পেতে পারে এবং গ্যাং শোষণের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments