বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খালিলুর রহমান এবং নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা আজ সন্ধ্যায় ঢাকা শহরে একত্রিত হয়ে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রের সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। দু’জন মন্ত্রী উভয় দেশের জনগণের ভাগ করা স্বার্থকে অগ্রসর করার লক্ষ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
বালা নন্দা শর্মা, নেপাল সরকার থেকে আসা এই সফরে, ড. খালিলুর রহমানকে তার নতুন দায়িত্বে নিয়োগের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে উভয় দেশের কূটনৈতিক বন্ধনের দৃঢ়তা পুনরায় নিশ্চিত করেন। উভয় পক্ষই পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মন্ত্রী অবসর শামা ওবায়েদ ইসলাম, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং পরিচালক জেনারেল ইস্রাত জাহান সহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মকর্তারা নেপালের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক সমন্বয় ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য সমাবেশে অংশ নেন।
নেপাল সরকারের প্রতিনিধিদলেও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। শর্মার সঙ্গে ছিলেন দূত গ্যানশিয়াম ভাণ্ডারি, যৌথ সচিব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী, ডেপুটি চিফ অফ মিশন লালিতা সিলওয়াল এবং আন্ডার সচিব মধুসুদন ভট্টারায়। এই দলটি নেপালের কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।
মিটিংয়ের মূল আলোচনায় উভয় দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ইতিহাস, পারস্পরিক প্রতিবেশী স্নেহ, এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের গভীরতা পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। দুই দেশের কূটনীতিকরা উল্লেখ করেছেন যে, ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রের সমন্বয় বৃদ্ধি করা উভয়ের জন্যই লাভজনক হবে।
বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের মুখে উভয় সরকারই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমাণ বাড়ানো, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং অবকাঠামোগত সংযোগ উন্নত করার পরিকল্পনা আলোচনা করা হয়। এ ধরনের পদক্ষেপগুলো উভয় দেশের শিল্প ও কৃষি খাতের বিকাশে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হয়।
বাণিজ্য, জ্বালানি, সংযোগ এবং পর্যটন ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই স্বীকার করেছে যে, বর্তমান বাণিজ্যিক পরিমাণের তুলনায় অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে রেলওয়ে, সড়ক ও সাগরপথ সংযোগের মাধ্যমে পণ্য প্রবাহ সহজতর করা। জ্বালানি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিদ্যুৎ বিনিময় এবং নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। পর্যটন ক্ষেত্রে দু’দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে পর্যটক প্রবাহ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে মতবিনিময় হয়েছে।
মিটিং শেষে উভয় মন্ত্রী ভবিষ্যতে নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের মাধ্যমে এই পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতি ও প্রক্রিয়া গঠন করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তী মাসে দু’দেশের অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি কর্মশালা আয়োজনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট প্রকল্পের রোডম্যাপ তৈরি করা যায়। এভাবে বাংলাদেশ সরকার ও নেপাল সরকার উভয়ই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা গড়ে তোলার পথে অগ্রসর হচ্ছে।



