ঢাকায় বুধবার বিকাল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রমজান মাসের প্রস্তুতির জন্য সরকার যে তিনটি মূল ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তা জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, রমজান উপলক্ষে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সরকারের তাত্ক্ষণিক কাজের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান অনুসারে দেশের জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল মন্ত্রিকে এই তিনটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। স্বপন বলেন, রমজানের তারাবির নামাজ ও ইফতারের সময় কোনো অসুবিধা না হয় তা নিশ্চিত করা সরকারী নীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরও একই সভায় রমজানে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশের কথা পুনরায় জোর দিয়ে বললেন। তিনি যুক্ত করেন, মূল্যস্ফীতি রোধে বাজার পর্যবেক্ষণ বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকের পর মন্ত্রিবর্গকে দুই দিনের মধ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করতে হবে বলে স্বপন নির্দেশ দেন। তিনি জানান, পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে তা অনুযায়ী দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হবে।
মন্ত্রিসভার আলোচনায় ৩১ দফার কর্মসূচি উল্লেখ করা হয়, যা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামত পরিকল্পনার অংশ। স্বপন উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একক দল নয়, সব রাজনৈতিক দল একসাথে সমর্থন করেছে এবং নির্বাচনের পর ১৮০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। স্বপন বলেন, এই নীতিগুলোকে সুনিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় একটি কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
গঠিত কমিশনের প্রস্তাবনা এখন পর্যন্ত সরকারী পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী করা হলে তা কার্যকর করা হবে। স্বপন উল্লেখ করেন, তথ্যের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি।
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে মূল্য স্থিতিশীলতা, নিরাপদ পরিবেশ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকারী পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই নীতিগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে অতিরিক্ত সমন্বয় করা হবে।
সারসংক্ষেপে, রমজান মাসের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ সরকার তিনটি মূল অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিবর্গকে দ্রুত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিতে নির্দেশ দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে, যা রমজানকালে জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।



