ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জুরি ট্রায়াল কোর্টে বুধবার মার্ক জুকারবের্গ, মেটা প্ল্যাটফর্মসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং ইনস্টাগ্রামের মালিক, সামাজিক মিডিয়া শিশুদের মধ্যে আসক্তি সৃষ্টি করে কিনা তা নিয়ে সাক্ষ্য দেবেন। এই সাক্ষ্য তার প্রথম জুরি সামনে দেওয়া হবে, যা মেটার ওপর বছরের পর বছর চলা সমালোচনার পর আসে।
মেটা প্ল্যাটফর্মসের আইনজীবীরা প্রধান বাদী, যাকে K.G.M নামের আদ্যক্ষর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, তার সমস্যাগুলি ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের চেয়ে অন্য কারণের ফলাফল বলে যুক্তি দেন। বাদীর পরিবার দাবি করে যে প্ল্যাটফর্মের নকশা ও ব্যবহারকারীর আকর্ষণ বাড়ানোর কৌশলগুলো শিশুরা সহজে নিয়ন্ত্রণ হারায়।
লস এঞ্জেলেসের এই শুনানিতে গুগল ইউটিউবও অভিযুক্ত হিসেবে উপস্থিত, যা সামাজিক মিডিয়া কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়তে থাকা আইনি চাপে নতুন মাত্রা যোগ করে। টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটও একই মামলায় নাম উল্লেখ পেয়েছিল, তবে ট্রায়াল শুরুর আগে তারা গোপনীয় শর্তে সমঝোতা করে মামলাটি থেকে বেরিয়ে যায়।
মেটা প্ল্যাটফর্মসের ইনস্টাগ্রামের নকশা, ব্যবহারকারীকে দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে রাখার জন্য করা পরিবর্তনগুলো এবং বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক ব্যবসা মডেল ট্রায়ালের মূল বিষয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিজ্ঞাপন আয় মূলত ব্যবহারকারীর প্ল্যাটফর্মে ব্যয়িত সময়ের ওপর নির্ভর করে, যা আদালতে বিশদভাবে আলোচনা হবে।
ইনস্টাগ্রামের প্রধান আদাম মোসেরি গত সপ্তাহে সামাজিক মিডিয়া আসক্তি ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, এক দিনে ১৬ ঘণ্টা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করলেও তা আসক্তি হিসেবে গণ্য করা যায় না। তার এই মন্তব্য ট্রায়ালের সময় জুকারবের্গের প্রশ্নের ভিত্তি হতে পারে।
মামলাটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চলবে বলে অনুমান, এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রাক্তন কর্মচারীদের সাক্ষ্যও অন্তর্ভুক্ত হবে, যারা কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নীতি ও ব্যবহারকারীর ডেটা পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউটিউবের সিইও নিল মোহানও প্রথমে সাক্ষ্য দেওয়ার তালিকায় ছিলেন, তবে শেষ মুহূর্তে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যের পরিবার, রাজ্য প্রোsecutor এবং স্কুল জেলা দ্বারা দায়ের করা হাজারো অনুরূপ মামলার একটি। এসব মামলায় মেটা, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট এবং ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলা এবং আসক্তিকর ডিজাইন ব্যবহার করার অভিযোগ করা হয়েছে।
একটি উল্লেখযোগ্য মামলায় ২৯টি রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল একত্রে মেটা এবং অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যদিও সেই মামলার বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি।
এই ধরনের আইনি লড়াই সামাজিক মিডিয়া শিল্পের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। যদি আদালত প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর সময় বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট নকশা পরিবর্তন বন্ধ করতে আদেশ দেয়, তবে বিজ্ঞাপন আয়ের মডেল ও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে।
মেটা প্ল্যাটফর্মসের জন্য এই সাক্ষ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়, কারণ জুকারবের্গের সরাসরি বক্তব্য আদালতে প্রকাশ পেলে কোম্পানির নীতি ও কৌশল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য সামাজিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতি গঠনের সম্ভাবনা বাড়বে।
সামাজিক মিডিয়া আসক্তি নিয়ে চলমান বিতর্কে এই ট্রায়াল একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত, এবং এর ফলাফল ভবিষ্যতে অন্যান্য অনুরূপ মামলায় রেফারেন্স হিসেবে কাজ করতে পারে।



