সাম পোলার্ড পরিচালিত ‘টুটু’ ডকুমেন্টারিটি ২০২৪ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ প্রদর্শনী হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্য বিলুপ্তিতে বিশাল ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত ধর্মগুরু ডেসমন্ড টুটুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে এই চলচ্চিত্রে চিত্রায়িত করা হয়েছে।
ডকুমেন্টারিটি টুটুর ব্যক্তিগত দিককে উন্মোচন করার পাশাপাশি তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কর্মজীবনের মূল পর্যায়গুলোকে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রের মোট সময়কাল প্রায় এক ঘণ্টা চুয়াল্লিশ মিনিট, যা দর্শকদেরকে টুটুর জীবনের গৌরবময় ও মানবিক দিকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।
পোলার্ডের পূর্বের কাজগুলোর মধ্যে ‘সিটিজেন অ্যাশ’ এবং ‘এমএলকে/এফবিআই’ নামের ডকুমেন্টারিগুলো উল্লেখযোগ্য, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার বিষয়ক গভীর বিশ্লেষণের জন্য প্রশংসিত হয়েছে। ‘টুটু’তে তিনি দুইজন পরামর্শক প্রযোজকের সহায়তা পেয়েছেন, যাদের নাম রজার ফ্রিডম্যান এবং বেনি গুল। উভয়ই সাংবাদিক পটভূমি সম্পন্ন, একজন ইহুদি এবং অন্যজন মুসলিম ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে, এবং টুটুর শেষ দুই দশকের জীবনের নিকটবর্তী দৃশ্য ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
প্রায় সম্পূর্ণ স্বাধীন প্রবেশাধিকার পেয়ে তারা টুটুর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশের অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করতে সক্ষম হয়েছেন। চলচ্চিত্রে টুটুর স্ত্রী লিয়া, বন্ধু এবং আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তার আন্তরিক মুহূর্তগুলো দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, টুটুর জন্মদিনের পার্টিতে তার বাড়ির পিছনের বাগানে অনুষ্ঠিত উদযাপন এবং তার হাস্যোজ্জ্বল স্বভাবের দৃশ্যগুলো দর্শকের মনকে হালকা করে দেয়।
ডকুমেন্টারিটি টুটুর জীবনের মূল ঘটনাগুলোকে সময়ক্রমে সাজিয়ে উপস্থাপন করে। ১৯৬০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি লন্ডনে ধর্মশাস্ত্রের অধ্যয়ন করেন, যেখানে তিনি ইউরোপীয় সমাজের সঙ্গে প্রথমবারের মতো পরিচিত হন এবং নিজের মাতৃভূমির বর্ণবৈষম্যের সঙ্গে তুলনা করে একটি রূপান্তরমূলক অভিজ্ঞতা লাভ করেন। এই সময়ের শিক্ষা তার পরবর্তী কর্মজীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
শিক্ষা শেষ করার পর টুটু এবং তার স্ত্রী লিয়া দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসেন। তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাবিষয়ক পদে কাজ করেন, যার মধ্যে পাস্টর ও থিয়োলজিস্টের দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে প্রতিবাদে অংশ নেন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে মানবাধিকার রক্ষার জন্য স্বীকৃতি অর্জন করেন।
‘টুটু’ ডকুমেন্টারিটি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক তথ্যের সংকলন নয়; এটি টুটুর ব্যক্তিগত দিক, তার হাসি, তার পরিবারিক সম্পর্ক এবং তার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে উন্মোচন করে। চলচ্চিত্রের নির্মাণে ব্যবহার করা অদ্ভুত ও আন্তরিক দৃশ্যগুলো দর্শকদেরকে টুটুর সঙ্গে মানসিকভাবে সংযুক্ত করে, যেন তিনি সরাসরি দর্শকের সামনে উপস্থিত।
বার্লিন ফেস্টিভ্যালে এই চলচ্চিত্রের বিশ্বপ্রদর্শনী টুটুর জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, টুটুর ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক ন্যায়বিচারকে কীভাবে সংযুক্ত করা যায়, তা নিয়ে চলচ্চিত্রটি গভীর প্রশ্ন উত্থাপন করে।
সাম পোলার্ডের এই কাজটি দক্ষিণ আফ্রিকান ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার পাশাপাশি টুটুর মানবিক গুণাবলীর প্রতি সম্মান জানায়। ডকুমেন্টারিটি তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি দর্শকদেরকে টুটুর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করার সুযোগ দেয়।
‘টুটু’ ডকুমেন্টারিটি বিনোদন ও সংস্কৃতি বিভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দর্শকদেরকে ইতিহাসের সঙ্গে মানবিক সংবেদনশীলতা মিশ্রিত করে উপস্থাপন করে। চলচ্চিত্রের শেষ পর্যন্ত টুটুর জীবনের গভীরতা ও তার আদর্শের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়, যা দর্শকদেরকে তার কর্মের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।



