বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারী স্তরে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন, তা জানালেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। বুধবার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য গৃহীত মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর সেক্রেটারিয়েটের ব্রিফিংয়ে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন।
সাকির মতে, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সঙ্গে আলোচনা করে সকলকে নির্বাচনী অঙ্গীকারের পূরণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করতে বলেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইশতেহার বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় সময়ের অপচয় এড়াতে হবে।
এই নির্দেশনা অনুসারে, সরকারী দপ্তরগুলোকে নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দেওয়া প্রকল্প ও নীতিগুলোকে দ্রুত অগ্রসর করার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কাজগুলোকে ত্বরান্বিত করা হবে বলে আশা করা যায়।
সাকি উল্লেখ করেন, ইশতেহার বাস্তবায়নে কোনো ধীরগতি বা অগ্রাধিকারহীনতা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং মূল কাজের ওপর জোর দেওয়া উচিত, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা অনুসরণে, প্রতিটি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা মন্ত্রিপরিষদের সদস্যকে দুর্নীতির সুযোগ না দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে পুনর্ব্যক্ত করে, সাকি বলেন, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায় এবং কোনো অবৈধ লেনদেনের সুযোগ না দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি উল্লেখ করেন, এই নীতি সকল স্তরে প্রয়োগ করা হবে।
বিএনপির ইশতেহার বাস্তবায়ন নিয়ে পূর্বে কিছু সমালোচনা থাকলেও, সরকার এখন এই বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার সংকল্প প্রকাশ করেছে। সাকির মন্তব্যে দেখা যায়, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও ইশতেহার বাস্তবায়নকে একসাথে এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিএনপির নেতারা পূর্বে ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের অমনোযোগের অভিযোগ তুলেছিলেন, তবে এখন সরকারী দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সাকির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইশতেহার প্রতিশ্রুতি পূরণে সকল স্তরে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদের মধ্যে দ্রুত বিতরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ত্বরান্বিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এতে করে নির্বাচনের সময় ঘোষিত প্রকল্পগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও মানবসম্পদ নিশ্চিত করা হবে।
সাকির মতে, ইশতেহার বাস্তবায়ন শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং দেশের উন্নয়নের জন্যও অপরিহার্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই কাজগুলোকে সময়মতো সম্পন্ন করা হলে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারী নীতির কার্যকারিতা স্পষ্ট হবে।
অবশেষে, সাকি উল্লেখ করেন, দুর্নীতির কোনো সুযোগ না রেখে স্বচ্ছতা বজায় রাখা সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্যকে এই নীতি মেনে চলতে হবে এবং কোনো লঙ্ঘন হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এই নির্দেশনার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে ইশতেহার বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের ফলে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক গতিবিদ্যা গড়ে উঠতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারী দিক থেকে স্পষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সূচি প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।



