চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাউন্ডে বেনফিকায় রিয়াল মাদ্রিদ দলের ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে জাতিগত অপমানের অভিযোগে ইউইফা তদন্ত শুরু করার পর গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানির বিরুদ্ধে মানহানি অভিযানের দাবি উঠে এসেছে। ম্যাচ চলাকালীন ভিনিসিয়াস রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেটেক্সিয়েরের কাছে অভিযোগ জানানোর পর মাঠে ১০ মিনিটের বিরতি হয় এবং তিনি ও তার সাথীরা মাঠ ছেড়ে যান।
ভিনিসিয়াসের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিগত ঘৃণাকারীরা মূলত ভীতু এবং তাদের কাজ নিন্দনীয়। এই মন্তব্যের পরে তিনি পুনরায় মাঠে ফিরে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করেন, যা বেনফিকাকে পরাজিত করে।
গিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি, যিনি রিয়াল মাদ্রিদের উইংয়ে খেলছেন, যদি দোষী প্রমাণিত হন তবে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় ন্যূনতম দশ ম্যাচের সাসপেনশন পেতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন যে তিনি ভিনিসিয়োর প্রতি কোনো জাতিগত অপমান করেছেন।
বেনফিকার অফিসিয়াল এক্স (X) অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিও এবং পোস্টে ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, মাঠের দূরত্বের কারণে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা যে শব্দ শোনার দাবি করছেন তা শোনা সম্ভব ছিল না। ক্লাব এই বিষয়টি প্রেস্টিয়ানির পক্ষে সমর্থন করে এবং তার বিবরণকে সত্য বলে স্বীকার করে।
ক্লাবের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রেস্টিয়ানির ক্লাবের সেবায় সবসময়ই প্রতিপক্ষ, প্রতিষ্ঠা এবং বেনফিকার পরিচয় গঠনে মূল নীতিগুলোর প্রতি সম্মান বজায় রাখা হয়েছে। এছাড়া, প্রেস্টিয়ানি যে মানহানি অভিযানের শিকার হয়েছেন তা নিয়ে ক্লাব গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
মৌরিন্যো, বেনফিকার প্রধান কোচ, পোস্ট-ম্যাচ সাক্ষাৎকারে উভয় খেলোয়াড়ের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পেয়েছেন বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে ভিনিসিয়াসের গোল উদযাপন কিছুটা অবমাননাকর ছিল এবং বেনফিকার ইতিহাসে ইউসেবিওর নাম উল্লেখ করে ক্লাবের কোনো জাতিগত বৈষম্য নেই বলে জোর দেন।
মৌরিন্যো রিয়াল মাদ্রিদে ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত ১৭৮ ম্যাচ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন, বেনফিকার ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমানতা, সম্মান এবং অন্তর্ভুক্তির প্রতি অটল। তিনি ক্লাবের এই নীতিগুলোকে পুনর্ব্যক্ত করে বলেন যে, ইউসেবিওর আদর্শই বেনফিকার মূল ভিত্তি।
ইউইফা এখনও এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রেস্টিয়ানির ওপর সম্ভাব্য শাস্তি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করছে। ম্যাচের ফলাফল এবং ঘটনার পরিণতি উভয়ই ইউরোপীয় ফুটবলের ন্যায়বিচার ও সমতা নীতির ওপর আলো ফেলবে।



