22 C
Dhaka
Thursday, February 19, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমানের ঘোষণায় বাংলাদেশে 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' কূটনীতি

বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমানের ঘোষণায় বাংলাদেশে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কূটনীতি

রাষ্ট্র অতিথি গৃহ পদ্মায় আজ বিদেশ মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে স্বার্থকেন্দ্রিক, দায়িত্বশীল ও দৃঢ় পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করবে।

মন্ত্রীর মতে, এই নীতি দেশের স্বার্থ রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সকল দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্য রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিদেশ নীতি গঠনে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, আনিসুর রহমান জিকোর শাসনকালে গৃহীত সক্রিয় কূটনৈতিক নীতি পুনরুজ্জীবিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সেই সময় বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জাপানসহ শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হয়ে সফলভাবে স্থান অর্জন করেছিল।

তিনি আরও জানান, আনিসুর রহমান জিকো দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (SAARC) প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখতে অবদান রাখেন। এই ঐতিহাসিক অর্জনগুলোকে পুনরায় অর্জনের ইচ্ছা সরকার প্রকাশ করেছে।

মন্ত্রীর মতে, বর্তমান সরকার দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ও প্রভাব বাড়াতে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে চায়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবসময় তার ওজন অনুযায়ী ভূমিকা পালন করতে পারে না, তবে এখন একটি দৃঢ় ও দায়িত্বশীল কূটনীতি গড়ে তোলা হবে।

খলিলুর রহমান কূটনৈতিক নীতির মূল স্তম্ভ হিসেবে সার্বভৌম সমতা, স্বাধীনতার প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ের অ-হস্তক্ষেপ, জাতীয় গৌরব এবং পারস্পরিক লাভকে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নীতিগুলো দেশের স্বার্থ রক্ষায় অপরিহার্য।

মন্ত্রীর মতে, বিদেশে একতরফা চুক্তি বা চুক্তিবদ্ধতা এড়িয়ে চলা হবে এবং সব ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে করা হবে। তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, একপক্ষীয় চুক্তি দেশের স্বার্থ ক্ষুন্ন করতে পারে।

খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই দায়িত্ব তাকে ৪৬ বছর দীর্ঘ কূটনৈতিক ক্যারিয়ারের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদে থাকা দেশের জন্য একটি গুরুতর জাতীয় দায়িত্ব।

ইন্ডিয়ার সঙ্গে জুলাই উত্থানের পর সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়লেও, মন্ত্রী জানান সরকার সব দেশের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেবে। তিনি বলেন, কূটনৈতিক সংলাপ চালিয়ে যাবে।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান জানান, বাংলাদেশ এই বিষয়টি উপেক্ষা করবে না, বরং আরও সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

মন্ত্রীর মতে, অস্থায়ী সরকার আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং এই সংযোগগুলো বজায় থাকবে। তিনি বলেন, এই চ্যানেলগুলো দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শেষে, খলিলুর রহমান ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে বহুমুখী কৌশল গ্রহণের ইঙ্গিত দেন। তিনি আশ্বাস দেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments