ইথিওপিয়ার রাজধানী আদিস আবাবায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়িপ এরদোয়ান ইসরাইলের সিলোয়েডকে স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, হর্ন অফ আফ্রিকা অঞ্চলে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ বাড়লে পরিস্থিতি অস্থির হতে পারে।
ইসরাইল ডিসেম্বর মাসে সিলোয়েডকে স্বীকৃতি দিয়ে প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাস রচনা করেছিল। সিলোয়েড ৩০ বছরেরও বেশি আগে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও, সোমালিয়া সরকার এখনও এটিকে নিজের অংশ হিসেবে গণ্য করে। ইসরাইলের এই পদক্ষেপ সোমালিয়ার সরকারকে বিরক্ত করেছে।
এরদোয়ান এই মন্তব্য করেন ইথিওপিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সফরের সময়, যেখানে তিনি হর্ন অফ আফ্রিকাকে কোনো বিদেশি শক্তির যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দেন যে, অঞ্চলের দেশগুলো নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেদের মধ্যে করা উচিত।
ইথিওপিয়া এখনও সিলোয়েডের স্বীকৃতি সম্পর্কে কোনো সরকারি মন্তব্য করেনি। তবে দুই বছর আগে ইথিওপিয়া সিলোয়েডের উপকূলের একটি অংশ লিজে নিয়ে বন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছিল, যা সোমালিয়ার তীব্র প্রতিবাদে রূপ নেয়। সেই সময়ের বিরোধ সমাধানে এরদোয়ান মধ্যস্থতা করে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি কমিয়ে দেন।
সিলোয়েডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরদোয়ানের মন্তব্যের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তুর্কির হর্ন অফ আফ্রিকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে না বলার আহ্বান জানায়। তারা তুর্কির সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবকে স্বীকার করে, তবে অঞ্চলীয় শান্তি রক্ষায় আরও সংযমের পরামর্শ দেয়।
আদিস আবাবায় অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদও উপস্থিত ছিলেন। আবি তুর্কিকে ইথিওপিয়ার সমুদ্র প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করার অনুরোধ করেন, কারণ দেশটি ১,৩৫০ কিলোমিটার লাল সাগরের তীর থেকে বঞ্চিত।
ইথিওপিয়া ১৯৯৩ সালে এরিট্রিয়ার স্বাধীনতা স্বীকার করার পর থেকে কোনো সমুদ্রবন্দর না পেয়ে ভূমি-কারাগার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবি উল্লেখ করেন, ১.৩ কোটি মানুষের দেশকে সমুদ্রের প্রবেশাধিকার না দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে শত্রুদের ষড়যন্ত্রের শিকার করা ন্যায়সঙ্গত নয়।
আবির মতে, এ পর্যন্ত ইথিওপিয়া এশিয়ার দক্ষিণে অবস্থিত এরিট্রিয়ার আসাব বন্দরকে নিজের অধিকার হিসেবে দাবি করে আসছে। আসাব বন্দরের দূরত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার এবং এটি ইথিওপিয়ার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আবি ইঙ্গিত দেন যে, প্রয়োজনে শক্তি ব্যবহার করে এই বন্দর দখল করার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবি তুর্কি সরকারের কাছে অনুরোধ করেন, যাতে তারা কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইথিওপিয়ার সমুদ্র প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তিনি উল্লেখ করেন, তুর্কি ও ইথিওপিয়ার মধ্যে ইতিমধ্যে শক্তিশালী আলোচনা হয়েছে এবং উভয় পক্ষই এই বিষয়টি সমাধানে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
এরদোয়ানের ইসরাইলের স্বীকৃতি প্রত্যাখ্যান এবং আবির সমুদ্র প্রবেশের দাবি উভয়ই হর্ন অফ আফ্রিকায় ভূ-রাজনৈতিক গতিবিধি পুনর্গঠন করতে পারে। তুর্কির এই অঞ্চলে বাড়তে থাকা প্রভাব এবং ইথিওপিয়ার বন্দর পরিকল্পনা ভবিষ্যতে স্থানীয় ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।



