রমজান মাসের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বাজারে কঠোর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ছয়টায় তিনি নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, রমজানকালে খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্যতেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহে অনিয়ম রোধে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পোস্টে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, দেশের বৃহত্তম আমদানিকৃত পণ্য সরবরাহকারী সিন্ডিকেটগুলোর মধ্যে বসুন্ধরা, ফ্রেশ, সিটি, টিকে, নাবিল, এসআই এবং অন্যান্য মজুতদার ও পাইকারদের লক্ষ্য করে কঠোর সতর্কতা জারি করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো রমজানকালে মূল পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের অভিযোগের মুখে রয়েছে।
ইশরাক হোসেন জানান, তিনি তার নির্বাচিত সংসদীয় আসন থেকে সরাসরি এই গোষ্ঠীগুলোর ওপর তদারকি শুরু করবেন এবং সম্ভব হলে আরও পদক্ষেপ নেবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো বড় নেতা, মন্ত্রী বা সরকারি কর্মকর্তা ব্যবহার করে ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকবে না।
এছাড়া তিনি মাফিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, যদি সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষ সঠিকভাবে খাবার না পায়, তবে এই মাফিয়ারাও রমজানকালে কোনো সুবিধা পাবে না। তার এই মন্তব্যের শেষে তিনি “ইনশাআল্লাহ” শব্দ দিয়ে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
বাজারের প্রতিনিধিরা পোস্টের পর সামাজিক মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সরকার যদি সরাসরি মজুতদারদের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে তা সরবরাহ শৃঙ্খলে অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে তারা ইশরাকের সতর্কতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, রমজানকালে দামের অস্থিতিশীলতা রোধে কোনো ধরনের লঙ্ঘন সহ্য করা যাবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইশরাকের এই পদক্ষেপকে সরকারের রমজান নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, রমজান মাসে মূল পণ্যের সুলভতা নিশ্চিত করা সরকারী জনপ্রিয়তা বজায় রাখার অন্যতম মূল চাবিকাঠি। তাই মজুতদারদের ওপর কঠোর তদারকি রাজনৈতিকভাবে সঠিক সময়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মজুতদার গোষ্ঠী দাবি করে যে তারা সরকারী নীতি মেনে চলতে প্রস্তুত এবং কোনো অনিয়ম না হলে তারা স্বেচ্ছায় মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখবে। তারা ইশরাকের সতর্কতাকে অপ্রয়োজনীয় হুমকি হিসেবে দেখলেও, সরকারী তদারকি বাড়লে তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।
ইশরাকের পোস্টের পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি, তবে তিনি উল্লেখিত বিষয়গুলোকে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই সতর্কতা রমজান মাসের শুরুর আগে প্রকাশিত হওয়ায়, বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারী তদারকি বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে, রমজানকালে সাধারণ মানুষের খাবার ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে কিনা, তা এখনো পর্যবেক্ষণাধীন।
সারসংক্ষেপে, ইশরাক হোসেন রমজান মাসে খাদ্যদ্রব্যের মজুতদার ও পাইকারদের ওপর সরাসরি তদারকি শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং মাফিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই নীতি বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং নিম্নআয়ের জনগণের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার কীভাবে এই সতর্কতাকে বাস্তবায়ন করবে এবং বাজারের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা সময়ের সাথে স্পষ্ট হবে।



