হলিউডের পরিচিত চরিত্র অভিনেতা টম নুনান ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। তিনি শনি, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডে-তে নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর কারণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।
নুনানকে চলচ্চিত্র জগতে বিশেষ করে ‘ম্যানহান্টার’, ‘দ্য মনস্টার স্কোয়াড’ এবং ‘হিট’ ছবিতে তার ভূমিকাগুলোর জন্য স্মরণ করা হয়। ‘দ্য মনস্টার স্কোয়াড’ (১৯৮৭) ছবিতে তিনি ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দেহে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
‘দ্য মনস্টার স্কোয়াড’ এর পরিচালক ফ্রেড ডেকার ফেসবুকে নুনানের মৃত্যু জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন। তিনি নুনানের ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন রূপের অভিনয়কে ছবির অন্যতম হাইলাইট বলে উল্লেখ করেন এবং স্ট্যান উইনস্টন, টম উড্রাফ জ্যুনিয়র ও জোলটান এলেকের তৈরি মেকআপের প্রশংসা করেন।
ডেকার আরও জানান, নুনানকে ‘ম্যানহান্টার’ ছবির ফ্রান্সিস ডলারহাইড চরিত্রে কাস্ট করার জন্য তিনি বহুবার চেষ্টা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত নুনান হোলিউডের নিজের বাড়িতে ডেকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও মেকআপের কঠিনতা ও অস্বস্তি নিয়ে তিনি কখনো কখনো তা না খুলে বাড়ি ফিরে যান, তবু তিনি পুরো প্রক্রিয়াকে স্বীকার্যভাবে গ্রহণ করেন।
ডেকার নুনানের ব্যক্তিত্বকে ‘ভদ্র ও পণ্ডিত’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং তার শিল্পকর্মের ক্ষতি নিয়ে শোক প্রকাশ করেন। তিনি নুনানের কাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেষ কথায় “R.I.P. টম” লিখে শেষ করেন।
টম নুনানের জন্ম ১২ এপ্রিল ১৯৫১, গ্রিনউইচ, কানেকটিকাটে। তার পিতা জন জ্যাজ সঙ্গীতশিল্পী ও দন্তচিকিৎসক ছিলেন, আর মা রিটা গণিত শিক্ষিকা। পরিবারিক পরিবেশে সৃজনশীলতা ও শিক্ষার মিশ্রণ নুনানের ভবিষ্যৎ শিল্পজীবনের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল।
শৈশব থেকেই নুনান নাট্যশিল্পে আগ্রহী হন। তিনি নিউইয়র্কের অফ-ব্রডওয়ে মঞ্চে স্যাম শেপার্ডের ‘বার্ড চাইল্ড’ নাটকে অংশ নেন, যা তার অভিনয় দক্ষতার প্রথম প্রকাশ ছিল। এরপর তিনি দ্রুত চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন এবং ভয়ঙ্কর খলনায়কের ভূমিকায় বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
‘ম্যানহান্টার’ (১৯৮৬) ছবিতে নুনান ফ্রান্সিস ডলারহাইড, অর্থাৎ সিরিয়াল কিলার ‘রেড রাইডার’ চরিত্রে অভিনয় করেন। তার শীতল ও ভয়ঙ্কর চেহারা দর্শকদের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল এবং চলচ্চিত্রের সাসপেন্সকে বাড়িয়ে তুলেছিল।
‘হিট’ (১৯৯৫) ছবিতে তিনি আরেকটি স্মরণীয় চরিত্রে উপস্থিত হন, যেখানে তার উপস্থিতি ছবির তীব্রতা ও নাটকীয়তা বাড়িয়ে দেয়। এই দুই ছবিই নুনানের ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অভিনয় ছাড়াও নুনান লেখক ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি নিজের স্বকীয় শৈলীতে চলচ্চিত্র নির্মাণের চেষ্টা করেছেন, যদিও তার প্রধান পরিচিতি এখনও অভিনেতা হিসেবে রয়ে গেছে।
তার মৃত্যু শিল্পজগতে একটি বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বহু সহকর্মী ও চলচ্চিত্রপ্রেমী নুনানের স্মরণে সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার কাজের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।
নুনানের পরিবার ও নিকটজনদের জন্য এই সময়টি কঠিন, তবে তার শিল্পকর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়ে যাবে। তার অবদানকে স্মরণ করে চলচ্চিত্র জগতে তার নামের সঙ্গে যুক্ত ভয়ঙ্কর চরিত্রগুলো আজও আলোচনার বিষয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, নুনানের মৃত্যুর কারণ এখনও প্রকাশিত হয়নি এবং তার শেষকৃত্য সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তার পরিবার গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছে।



