স্রিলঙ্কা জাতীয় ক্রিকেট দল বুধবার ঘোষণা করেছে যে ২৩ বছর বয়সী দ্রুতগতি বোলার মাথেশা পাথিরানা টি২০ বিশ্বকাপের বাকি অংশে অংশ নিতে পারবেন না। তার বাম পায়ের মাংসপেশীর টান ধরা পড়ার ফলে তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়েছেন।
পাল্লেকেলে অনুষ্ঠিত গ্রুপ বি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলের মুখোমুখি প্রথম ওভারে পাথিরানা হঠাৎ বাম পা ধরতে গিয়ে মাটিতে গিয়ে পড়ে। তিনি তৎক্ষণাৎ বাম পা ধরে ব্যথা প্রকাশ করেন এবং মাঠের বাইরে চলে যান। চিকিৎসক দলের পরামর্শে তিনি ম্যাচে ফিরে আসতে পারেননি।
পাথিরানা স্রিলঙ্কার ডেথ ওভারের নির্ভরযোগ্য বোলার হিসেবে পরিচিত। তার গতি ও লাইন ব্যাটসম্যানদের শেষ ওভারে চাপ দেয়, ফলে দলকে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট সংগ্রহে সহায়তা করে। তার অনুপস্থিতি দলের বোলিং পরিকল্পনায় বড় ফাঁক তৈরি করেছে।
তবুও স্রিলঙ্কা দল অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে আট উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত করে গ্রুপ বিতে জয় নিশ্চিত করে। পাথিরানার প্রস্থান সত্ত্বেও দলটি ব্যাটিংয়ে দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচের ফলাফলকে নিজের পক্ষে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
দলীয় ব্যবস্থাপনা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দিলশান মাদুশঙ্কাকে পাথিরানার পরিবর্তে অন্তর্ভুক্ত করেছে। মাদুশঙ্কা এখন টুর্নামেন্টের বাকি অংশে স্রিলঙ্কার বোলিং আক্রমণে অংশ নেবে এবং ডেথ ওভারে তার দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পাবে।
পাথিরানার বাদ পড়া স্রিলঙ্কার জন্য দ্বিতীয় বড় আঘাতের সূচনা করে। পূর্বে দলটি হ্যান্সট্রিং আঘাতে ব্যথিত অল-রাউন্ডার ওয়ানিন্দু হসারাঙ্গাকে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আইরল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয়েছিল।
হসারাঙ্গার আঘাত তার দ্রুতগতির বোলিং এবং মিড-অর্ডার ব্যাটিং উভয় ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলেছিল। তার অনুপস্থিতি স্রিলঙ্কার ব্যাটিং গভীরতা এবং বোলিং বৈচিত্র্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, ফলে দলকে বিকল্প কৌশল খুঁজতে বাধ্য করেছে।
দুইজন মূল খেলোয়াড়ের একসাথে বাদ পড়া স্রিলঙ্কার স্কোয়াডে গ্যাপ তৈরি করেছে, বিশেষ করে ডেথ ওভার ও মাঝারি ওভারে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে। কোচিং স্টাফ এখন বাকি খেলোয়াড়দের ভূমিকা পুনর্বিন্যাস করে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
স্রিলঙ্কা আগামী বৃহস্পতিবার কোলোম্বোর হোম গ্রাউন্ডে জিম্বাবুয়ে দলের সঙ্গে গ্রুপ বি’র শেষ ম্যাচ খেলবে। এই ম্যাচটি দলকে গ্রুপ পর্যায়ে অগ্রসর হতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের সুযোগ দেবে।
গ্রুপ পর্যায়ের শেষের পর স্রিলঙ্কা সুপার এইট পর্যায়ে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে, যা রবিবার নির্ধারিত। ইংল্যান্ডের শক্তিশালী ব্যাটিং ইউনিটের বিরুদ্ধে স্রিলঙ্কার বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স টুর্নামেন্টে তাদের অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হবে।
দুটি প্রধান খেলোয়াড়ের আঘাত সত্ত্বেও স্রিলঙ্কা দল আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে টুর্নামেন্টে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাবে। নতুন বোলারদের সুযোগ এবং বিদ্যমান খেলোয়াড়দের বহুমুখী ভূমিকা দলকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সহায়তা করবে।
সারসংক্ষেপে, টি২০ বিশ্বকাপের মাঝামাঝি সময়ে স্রিলঙ্কা দলকে গুরুতর আঘাতের সম্মুখীন হতে হয়েছে, তবে পরিবর্তিত স্কোয়াডের সঙ্গে তারা পরবর্তী ম্যাচে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামবে।



