বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব মাহদী হাসান ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থানকালে লাইভ সম্প্রচারে অংশ নেন এবং “বাংলাদেশ, আই অ্যাম সেফ নাউ!” বলে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
মাহদী হাসান দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সংগঠনের কার্যক্রম তদারকি করেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সফর করেন, যেখানে তিনি দিল্লি বিমানবন্দরে থেমে ছিলেন। সফরের সময় তিনি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে সমর্থকদের আপডেট দেন।
লাইভে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি সমর্থকদের উদ্বেগ না করার আহ্বান জানান এবং বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল এবং কোনো জরুরি হুমকি নেই।
মাহদী হাসানের এই মন্তব্য দ্রুতই সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবের বিভিন্ন পেজে তার ভিডিও শেয়ার করা হয় এবং মন্তব্যে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে কিছু ব্যবহারকারী তার সফরের পটভূমি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলেন। তারা জানতে চান, দিল্লিতে তার ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য কী এবং কীভাবে এই মুহূর্তে লাইভে যুক্ত হওয়া সম্ভব হয়েছে।
এই মুহূর্তে সংগঠনের কেন্দ্রীয় বা জেলা পর্যায় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশিত হয়নি। তাই তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে স্পষ্টীকরণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত এ ধরনের সরাসরি প্রকাশনা সমর্থকদের মনোবল বাড়াতে পারে এবং সংগঠনের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেন, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস জনসাধারণের প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা পূর্বে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করলেও, এই ধরনের সরাসরি নিশ্চিতকরণ প্রথমবারের মতো দেখা যাচ্ছে। এটি সংগঠনের অভ্যন্তরে এবং বাহ্যিকভাবে সমর্থন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অপরপক্ষে, বিরোধী দল ও সমালোচকরা এই প্রকাশকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা দাবি করেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অতিরিক্ত জোর দেওয়া হয়তো বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ব্যবহৃত হতে পারে।
ভবিষ্যতে সংগঠন কীভাবে এই পরিস্থিতি ব্যবহার করবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পষ্ট বার্তা দেওয়া এবং সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখা তাদের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।
সংগঠন থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্যের অপেক্ষা চললেও, মাহদী হাসানের লাইভ বক্তব্য ইতিমধ্যে সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে। এই ধরনের সরাসরি যোগাযোগের ধারাবাহিকতা রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।



