22 C
Dhaka
Wednesday, February 18, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিহবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় পুনরায় উদ্বোধন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অগ্নিকাণ্ড

হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় পুনরায় উদ্বোধন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অগ্নিকাণ্ড

হবিগঞ্জের টাউন হলের পাশে অবস্থিত আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। নিষিদ্ধ কার্যক্রমের পর প্রথমবারের মতো অফিসের দরজা খুলে নেতারা জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে পুনরায় কাজের সূচনা ঘোষণা করেন। একই সময়ে কয়েকজন Jubo League ও Chhatra League নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন এবং স্লোগান গেয়ে সমাবেশকে উজ্জীবিত করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত Jubo League ও Chhatra League সদস্যরা কার্যালয়ের সামনে একত্রিত হয়ে দলীয় স্লোগান উচ্চারণের পর সরাসরি ভবনের ভিতরে প্রবেশ করেন। তাদের উপস্থিতি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় এবং কিছু দোকানিরা ঘটনাস্থলকে ঘিরে দাঁড়ায়।

উদ্বোধনের কয়েক ঘণ্টা পর দুপুরে অপ্রত্যাশিতভাবে কার্যালয়ের ভিতরে অগ্নি জ্বলে ওঠে। ধোঁয়া দেখতে পেয়ে আশেপাশের বাসিন্দা ও দোকানিরা দ্রুত আগুন নিবারণের চেষ্টা করে, তবে আগুনের উৎস ও দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী এক কলেজ ছাত্র অনিক চক্রবর্তী জানান, “হঠাৎই দেখলাম কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বলছে, কয়েকজন দৌড়ে এসে তা নিভিয়ে ফেলেছে।” তার বর্ণনা অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

হবিগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তাদের কোনো পূর্বসচেতনতা বা তথ্য প্রদান করা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, দমকল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত কাজ করে অগ্নি নিভিয়ে দেয়।

উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক নোমান আহমেদ বলেন, “সকালেই আমরা কয়েকজন মিলে অফিসের উদ্বোধনের ঘোষণা দিই, পরে দুপুরে ফেসবুকে দেখলাম কার্যালয়ে আগুন জ্বলে। প্রশাসন এই বিষয়ে নীরব রয়েছে।” তিনি অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলেন।

এই ঘটনার পূর্বে ৪ আগস্ট ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের সময় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। পরের দিন সরকার পতনের পর থেকে অফিসটি বন্ধ থাকে এবং দলীয় নেতারা আত্মগোপনে থাকায় দীর্ঘদিন কোনো কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি।

অফিসের পুনরায় খোলার পরেও স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি দেলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। এই যোগাযোগহীনতা পরিস্থিতির জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

অবস্থার পটভূমিতে রয়েছে ২৪ জানুয়ারি গণ-অভ্যুত্থানের পর গৃহস্থ সরকার কর্তৃক আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত। ১২ মে ২০২৫-এ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ গেজেটে দলটির নিষিদ্ধের আনুষ্ঠানিক নোটিশ প্রকাশ করে।

অবৈধভাবে পুনরায় খোলা অফিস এবং তার পরপরই ঘটিত অগ্নিকাণ্ড রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মুহূর্তে ঘটেছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের উপর চাপ বাড়িয়ে দেবে। দলীয় নেতারা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে চলেছেন।

অগ্নিকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্বে থাকা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি এখনো কোনো সন্দেহভাজন চিহ্নিত করতে পারেনি, ফলে ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বিভাগকে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে ফলাফল প্রকাশ করা এবং দলীয় কার্যক্রমের নিরাপদ পুনরায় চালু নিশ্চিত করা প্রত্যাশিত।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Banglastream
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments