সান ফ্রান্সিসকোর স্টার্ট‑আপ Kana স্টেলথ মোড থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং মার্কেটিং ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য নমনীয় AI এজেন্টের স্যুট চালু করেছে। কোম্পানি সম্প্রতি Mayfield নেতৃত্বাধীন $15 মিলিয়ন সিড ফান্ডিং রাউন্ড সম্পন্ন করেছে। এই তহবিলের মাধ্যমে Kana তার এজেন্ট‑ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মকে দ্রুত বাজারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে, যা বিজ্ঞাপনদাতাদের ডেটা বিশ্লেষণ, লক্ষ্যগোষ্ঠী নির্ধারণ, ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং গ্রাহক সম্পৃক্ততা সহ বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে সক্ষম।
মার্কেটিং শিল্পে AI প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে; গুগল, মেটা, মাইক্রোসফট, টিকটক এবং Jasper, Copy.ai মত স্টার্ট‑আপগুলো ইতিমধ্যে বিভিন্ন AI টুল সরবরাহ করছে। তবে Kana‑এর পদ্ধতি আলাদা, কারণ এটি একাধিক কাজ একসাথে সম্পাদন করতে পারে এমন স্বাধীন এজেন্টের সমন্বয়ে গঠিত, যা পুরোনো মার্কেটিং সফটওয়্যারের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত করা যায়।
Kana‑এর প্রতিষ্ঠাতা টম চাভেজ (সিইও) এবং বিবেক বৈদ্য (সিটিও) মার্কেটিং প্রযুক্তিতে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা নিয়ে আসছেন। দুইজনই পূর্বে সফল উদ্যোগ চালিয়েছেন; তাদের প্রথম কোম্পানি Rapt ২০০৮ সালে মাইক্রোসফটের হাতে বিক্রি হয়, আর Krux ২০১৬ সালে সেলসফোর্সের অধিগ্রহণে পৌঁছায়। এই দুইটি সফল এক্সিটের পর তারা একটি স্টার্ট‑আপ স্টুডিও super{set} গঠন করেন, যেখানে Kana‑কে নয় মাসের জন্য ইনকিউবেট করা হয়।
Mayfield‑এর নেতৃত্বে গৃহীত সিড ফান্ডিং রাউন্ডে $15 মিলিয়ন সংগ্রহের পাশাপাশি, Kana‑এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্পষ্ট। তহবিলের বেশিরভাগ অংশ গবেষণা ও উন্নয়ন, ট্যালেন্ট নিয়োগ এবং মার্কেটিং টিমের সম্প্রসারণে ব্যয় হবে। তহবিলের উৎস ও পরিমাণ প্রকাশের পর শিল্প বিশ্লেষকরা Kana‑কে AI‑চালিত মার্কেটিং টুলের নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন।
Kana‑এর এজেন্টগুলো “লুজলি কাপলড” (loosely coupled) নকশা অনুসরণ করে, যা ব্যবহারকারীর চাহিদা অনুযায়ী রিয়েল‑টাইমে কাস্টমাইজ করা যায়। এজেন্টগুলোকে বিদ্যমান মার্কেটিং সিস্টেমে প্লাগ‑ইন হিসেবে যুক্ত করা যায়, ফলে পুরোনো সফটওয়্যারের পরিবর্তে সম্পূর্ণ নতুন প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর না করেও AI সুবিধা গ্রহণ করা সম্ভব। একই সঙ্গে একাধিক এজেন্ট একসাথে বিভিন্ন কাজ পরিচালনা করতে পারে, যা ক্যাম্পেইনের গতি ও দক্ষতা বাড়ায়।
প্রায়োগিক দৃষ্টিকোণ থেকে, একজন মার্কেটার Kana‑এর সিস্টেমে একটি মিডিয়া ব্রিফ আপলোড করলে এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য নির্ধারণ, লক্ষ্যগোষ্ঠী বিশ্লেষণ এবং উপযুক্ত মিডিয়া চ্যানেল নির্বাচন করে। এরপর এজেন্টগুলো গ্রাহক সম্পৃক্ততার জন্য চ্যাটবট অপ্টিমাইজেশন এবং রিয়েল‑টাইম পারফরম্যান্স মনিটরিং করে, ফলে পুরো ক্যাম্পেইন চক্রে মানবিক হস্তক্ষেপ কমে যায়।
চাভেজ উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে মার্কেটিং টিমগুলো এমন সমাধানের জন্য তীব্র চাহিদা দেখাচ্ছে, যা প্রযুক্তিগত জটিলতা কমিয়ে সরাসরি ফলাফল প্রদান করে। তিনি বলেন, “আমরা এই বাজারে দীর্ঘদিন কাজ করে আসছি; গ্রাহকদের সমস্যাগুলো আমরা গভীরভাবে বুঝি, তাই এই AI এজেন্টগুলোকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করা আমাদের মূল লক্ষ্য।”
Kana‑এর এই উদ্যোগ মার্কেটিং শিল্পে AI‑এর ব্যবহারকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। একদিকে, ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চমানের ডেটা বিশ্লেষণ ও ক্যাম্পেইন অপ্টিমাইজেশন সহজে পেতে পারে; অন্যদিকে, বড় ব্র্যান্ডগুলো দ্রুত পরিবর্তনশীল ভোক্তা আচরণে রিয়েল‑টাইমে সাড়া দিতে পারবে। এভাবে AI‑এর মাধ্যমে মার্কেটিং প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়তা ও ব্যক্তিকরণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, Kana স্টেলথ থেকে বেরিয়ে $15 মিলিয়ন তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে মার্কেটারদের জন্য নমনীয়, একাধিক কাজ সম্পাদনযোগ্য AI এজেন্টের প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। প্রতিষ্ঠাতাদের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও পূর্বের সফল এক্সিটের ভিত্তিতে, Kana‑এর সমাধানটি মার্কেটিং প্রযুক্তির পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং শিল্পে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সক্ষম বলে বিশ্লেষকরা প্রত্যাশা করছেন।



