বেরলিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (বেরলিনাল) বিশেষ বিভাগে উপস্থাপিত ‘দ্য ব্লাড কাউন্টেস’ (জার্মান: Die Blutgräfin) শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি উলরিকে ওটিঙ্গার পরিচালিত। ছবির স্ক্রিনরাইটে ওটিঙ্গার নিজে এবং এলফ্রিডে জেলিনেকের নাম যুক্ত, এবং এতে ইসাবেল হুপার্ট, বারগিট মিনিৎমায়ার, থমাস শুবের্ট, লার্স আইডিঙ্গারসহ বহু পরিচিত শিল্পী অভিনয় করেছেন। মোট দৈর্ঘ্য প্রায় দুই ঘণ্টা, যা দর্শকদেরকে আধুনিক ভিয়েনার পটভূমিতে গথিক রোমাঞ্চের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল সমৃদ্ধি প্রদান করে।
চলচ্চিত্রের শুরুতে একটি বিশাল নৌকা, যা গাঢ় লাল মখমলের চাদরে মোড়ানো, ভিয়েনার ভূগর্ভস্থ গুহা ও গর্তের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়। নৌকার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হুপার্টের চরিত্র, কাউন্টেস এলিজাবেথ, যিনি রক্তের রঙের গাউন, সোনার গ্লাভস এবং চুলের রঙে তামাটে আভা নিয়ে দৃশ্যমান। তার উপস্থিতি এক ধরণের রাজকীয় গর্বের ছাপ দেয়, এবং নৌকা থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আধুনিক ভিয়েনার রাস্তায় প্রবেশ করেন।
চিত্রের ভিজ্যুয়াল শৈলীকে বলা যায়, এটি গথিক ভৌতিকতার সঙ্গে ইউরোপীয় কল্পনার মিশ্রণ। উলরিকে ওটিঙ্গার পূর্বের কাজগুলোর মতোই চিত্রের মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতীকবাদের ব্যবহার করেছেন; রঙের তীব্রতা, সাজসজ্জার বিশদ এবং অদ্ভুত দৃশ্যাবলি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। হুপার্টের মুখের অভিব্যক্তি, তার শূন্যতা ও গম্ভীরতা, ছবির অন্ধকারময় থিমের সঙ্গে সুসঙ্গতভাবে মিলে যায়।
গল্পের মূল অংশে কাউন্টেস এলিজাবেথ ভিয়েনার একটি পাবলিক রেস্টরুমে প্রবেশ করেন এবং একটি তরুণী মহিলার সঙ্গে আকস্মিক দৃষ্টিপাত করেন। তার গলা হঠাৎই দাঁতের চিহ্নে চিহ্নিত হয় এবং তরুণীটি শীঘ্রই মৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যায়। এই দৃশ্যটি ছবির ভয়ংকর পরিবেশকে জোরালোভাবে প্রকাশ করে এবং গথিক রক্তপাতের ঐতিহ্যকে আধুনিক শহুরে পটভূমিতে পুনর্নির্মাণ করে।
চলচ্চিত্রের সাউন্ডট্র্যাক এবং সাউন্ড ডিজাইনও উল্লেখযোগ্য। ভিয়েনার গুহা ও গলির গুঞ্জন, নৌকার গতি এবং হুপার্টের চরিত্রের শ্বাস-প্রশ্বাসের সূক্ষ্ম শব্দগুলো একত্রে একটি অদ্ভুত, তবে মুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করে। এই অডিও উপাদানগুলো ছবির ভিজ্যুয়াল দিককে সমর্থন করে এবং দর্শকের অভিজ্ঞতাকে গভীর করে।
‘দ্য ব্লাড কাউন্টেস’ একটি ভিজ্যুয়াল ফেস্টিভাল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে গল্পের গঠন কিছুটা হালকা মনে হতে পারে। চরিত্রের বিকাশ এবং ঘটনাবলীর ধারাবাহিকতা মাঝে মাঝে সংক্ষিপ্ত মনে হয়, যা কিছু দর্শকের জন্য বর্ণনামূলক ঘাটতি সৃষ্টি করতে পারে। তবু, যদি দর্শক ভিজ্যুয়াল শিল্পের প্রতি আগ্রহী হন এবং গথিক ভৌতিকতার সঙ্গে আধুনিক শৈলীর সংমিশ্রণ উপভোগ করেন, তবে এই চলচ্চিত্রটি তাদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প।
সারসংক্ষেপে, ‘দ্য ব্লাড কাউন্টেস’ একটি চমকপ্রদ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যেখানে ইসাবেল হুপার্টের অনন্য উপস্থিতি এবং উলরিকে ওটিঙ্গারের স্বতন্ত্র শৈলী মিলিত হয়েছে। যদিও বর্ণনা কিছুটা পাতলা হতে পারে, তবে ছবির রঙিন চিত্র, সৃজনশীল সেট ডিজাইন এবং গথিক থিমের আধুনিক ব্যাখ্যা এটিকে একটি বিশেষ চলচ্চিত্র করে তুলেছে। ভবিষ্যতে গথিক ও আর্ট হাউস সিনেমা প্রেমিকদের জন্য এই কাজটি একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে।



