দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে উত্তর প্রদেশের নয়ডা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা একটি রোবট‑কুকুর প্রদর্শন করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়টি চীনা কোম্পানির তৈরি ইউনিট্রি গো‑২ রোবটকে নিজের উদ্ভাবন বলে উপস্থাপন করার অভিযোগে সম্মেলন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি শিক্ষাক্ষেত্রের নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রদর্শিত রোবটের নাম ‘অরিয়ন’ রাখা হয়েছিল, যদিও প্রকৃত পণ্যের মডেল নাম ইউনিট্রি গো‑২। নাম পরিবর্তন করে চীনা প্রযুক্তিকে নিজের বলে দাবি করা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা দেখা যায়। রোবটের নকশা, চলাচল ও সেন্সর সিস্টেম সবই চীনা নির্মাতা ইউনিট্রির প্রযুক্তিগত স্পেসিফিকেশন অনুসারে তৈরি।
ইউনিট্রি গো‑২ একটি বাণিজ্যিক রোবট কুকুর, যা চীনের বাজারে সরাসরি বিক্রি হয়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে একই মডেল ক্রয় করা যায় এবং এর দাম প্রায় দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার ভারতীয় টাকা। এই মূল্যের ভিত্তিতে রোবটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী বলে বিবেচিত হয়, তবে তা নিজস্ব গবেষণা ফলাফল হিসেবে উপস্থাপন করা অনৈতিক হিসেবে গণ্য হয়েছে।
রোবটের নাম পরিবর্তন এবং নিজস্ব উদ্ভাবন হিসেবে উপস্থাপনের ফলে টুইটার, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। মন্তব্যে বলা হয় যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি গ্রহণের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং বিদেশি পণ্যকে নিজের কাজ হিসেবে উপস্থাপন করা গবেষণা নীতির লঙ্ঘন।
বিতর্কের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি খসড়া বিবৃতি প্রকাশ করে। এতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা কখনোই রোবটটি নিজের তৈরি বলে দাবি করেনি। বরং এটি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক কাজের জন্য ব্যবহার করা হয় এবং রোবটের সক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করা মূল উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আরও জানায় যে, এই ধরনের রোবটের ব্যবহার ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রযুক্তি বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তুলতে সহায়ক। তারা দাবি করে যে, শিক্ষার্থীরা রোবটের সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার বিশ্লেষণ করে নিজস্ব সমাধান তৈরি করার সম্ভাবনা তৈরি করা হচ্ছে, যা দেশের প্রযুক্তি স্বনির্ভরতা বাড়াবে।
তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল সম্মেলনের ভেন্যুতে সক্রিয় ছিল এবং কর্মকর্তারা মিডিয়ার প্রশ্নের মুখোমুখি হন। প্রশ্নের মধ্যে রোবটের উত্স, মূল্য ও শিক্ষামূলক ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্টতা চাওয়া হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দিতে বাধ্য করে।
এই ঘটনার পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সরকারকে কঠোর সমালোচনা করে। তারা উল্লেখ করে যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শাসনকালে এআই ক্ষেত্রে ভারতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবহেলিত করা হয়েছে এবং চীনের প্রযুক্তি নিজের বলে উপস্থাপন করা লজ্জাজনক কাজ। কংগ্রেসের পোস্টে সরকারকে প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে আহ্বান জানানো হয়।
অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্ববিদ্যালয়কে এআই সম্মেলন থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে গবেষণা ও প্রদর্শনের সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং বিদেশি প্রযুক্তি সঠিকভাবে উল্লেখ করতে বাধ্য করবে। পাঠকগণ যদি কোনো প্রযুক্তি বা গবেষণা সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করতে চান, তবে প্রথমে উৎস যাচাই করা এবং মূল নির্মাতা বা সরবরাহকারীকে সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ।



