প্রবাসী কল্যাণ ও বিদেশি কর্মসংস্থান রাজ্যমন্ত্রী নূরুল হক নূর আজ বিকেলে সেক্রেটারিয়েটের প্রেস রুমে গাল্ফ অঞ্চলের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার সরকারের উদ্যোগ ঘোষণা করেন। তিনি জানালেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বিশেষ মনোযোগের মাধ্যমে মূল গন্তব্যে প্রবেশের পথ পুনরুদ্ধার করা হবে।
মন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশি শ্রমিকের গাল্ফে কাজের সুযোগ প্রথমবার আনিসুর রহমান জিকো’র শাসনকালে খুলে দেয়া হয় এবং পরে খালেদা জিয়া’র সরকারেও তা বজায় রাখা হয়। তবে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বহু গন্তব্য কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে প্রভাবিত করেছে।
রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, তাই বিদেশি কর্মসংস্থান বিস্তৃত করা নূরের শীর্ষ অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বললেন, রেমিট্যান্স না থাকলে জাতীয় বাজেটের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কাজ হিসেবে তিনি বিদেশি শ্রমিকের উচ্চ ব্যয় কমানো এবং প্রতারণা রোধে তৎপরতা প্রকাশ করেন। “প্রথমে আমরা প্রতারণা থামানো, অতিরিক্ত খরচ কমানো এবং আমাদের কর্মীদের জন্য যথাযথ সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দেব,” তিনি বলেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম বিষয়ক তার দ্বৈত দায়িত্বকে তিনি “জটিল ক্ষেত্র” হিসেবে উল্লেখ করেন। ইদ-উল-ফিতরের সময় বেতন দেরি, বিদেশি মিশনগুলোতে পর্যাপ্ত শ্রম কল্যাণ কর্মকর্তা না থাকা, এবং শ্রমিকদের সম্মুখীন হওয়া নানা কষ্ট এসব সমস্যার মধ্যে অন্যতম।
মন্ত্রীর মতে, গাল্ফে কাজের সুযোগ পুনরায় খুললে শ্রমিকদের বেতন সময়মতো পাওয়া এবং তাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় সহায়তা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে বিদেশি কর্মসংস্থান খরচ অতিরিক্ত বেড়ে গেছে, যা অনেক প্রার্থীর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
নূর বললেন, সরকার এখনো শ্রমিকদের জন্য সাশ্রয়ী ভিসা, সুলভ টিকিট এবং নিরাপদ রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে কাজ করছে। “প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বাড়িয়ে আমরা শ্রমিকের ক্ষতি রোধে পদক্ষেপ নেব,” তিনি যোগ করেন।
মন্ত্রীর দৃষ্টিতে, গাল্ফের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশে কাজ করা পরিবারগুলোকে আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নত জীবনের সুযোগ প্রদান করবে।
নূর তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে অতীতের অধিকার-ভিত্তিক আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “আগে আমি সেমিনারে কথা বলতাম, প্রেস ক্লাবে দাঁড়াতাম; এখন নীতি নির্ধারণের টেবিলে বসে আছি।” এই পরিবর্তন তার জন্য নতুন দায়িত্বের সূচনা।
তিনি নতুন দায়িত্বে অভ্যস্ত হতে সময়ের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ধৈর্য্যের আহ্বান জানান। “আমি এখনো শিখছি, তবে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করব,” তিনি আশ্বাস দেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যে গাল্ফের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় ধাপগুলোতে কূটনৈতিক আলোচনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি জানালেন, সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে কাজ করা হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে গাল্ফে শ্রমিকদের প্রবেশ সীমিত হওয়ার পর, নূর এই নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সুযোগ বাড়াতে চান। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপগুলো রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়িয়ে দেশের মুদ্রা সঞ্চয় বাড়াবে।
মন্ত্রীর মতে, গাল্ফে কাজের সুযোগ পুনরায় উন্মুক্ত হলে বেসরকারি রিক্রুটমেন্ট এজেন্সিগুলোর নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী হবে এবং প্রতারণা কমবে। তিনি এ বিষয়ে আইনগত কাঠামো তৈরি করার পরিকল্পনা জানান।
নূর আরও বললেন, বিদেশি শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করা হবে, যাতে তারা গন্তব্য দেশে কাজের পরিবেশে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।
মন্ত্রীর দৃষ্টিতে, গাল্ফের শ্রমবাজারের পুনরায় উন্মুক্তি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি উল্লেখ করেন, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়বে।
প্রকাশের পর, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গাল্ফের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূচনা করেছে। নূর জানান, এই আলোচনায় শ্রমিকের অধিকার, বেতন গ্যারান্টি এবং কাজের শর্তাবলী নিয়ে স্পষ্ট চুক্তি করা হবে।
মন্ত্রীর মতে, গাল্ফে কাজের সুযোগ পুনরায় উন্মুক্ত করা কেবল শ্রমিকদের জন্য নয়, দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, গাল্ফের দেশগুলো বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান বাজার।
নূর উল্লেখ করেন, গাল্ফে কাজের সুযোগ বাড়াতে সরকার নতুন ভিসা নীতি প্রণয়ন করবে, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত এবং স্বচ্ছ হয়।
মন্ত্রীর মতে, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের গৃহস্থালী আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সহায়তা করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই নীতি দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ভিত্তি।
নূর শেষ করে বললেন, “গাল্ফের শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, তবে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে শ্রমিকের কল্যাণ নিশ্চিত করে দেশের সমৃদ্ধি বাড়াব।” তিনি সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।



