গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ আজ ঢাকা সেক্রেটারিয়েটে প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানিয়েছেন, সরকার ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এতে পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ শৃঙ্খলা স্থিতিশীল করা এবং গ্যাস‑বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বাধা না আসা প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
প্রথম দফায় সরকার পণ্যদ্রব্যের অস্থিরতা কমাতে, বাজারে সস্তা পণ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি বাড়ানো এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরবরাহ শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে, সরকার লজিস্টিক্সের বাধা দূর করে পণ্যসম্ভার দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবে। বিশেষ করে কৃষি পণ্য ও মৌলিক সামগ্রীর পরিবহন সহজতর করতে রেল ও সড়ক নেটওয়ার্কের ব্যবহার বাড়ানো হবে।
শক্তি খাতে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহে কোনো বাধা না আসতে প্রয়োজনীয় তদবির করা হবে। বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ত্বরান্বিত করা এবং গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মিটিংয়ে গৃহমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার গৃহীত নীতি ও মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রথম দিনেই ক্যাবিনেটের সমন্বয়ে একটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সকল মন্ত্রিসভা সদস্য, উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা শোনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরকারী অগ্রাধিকার নির্ধারণের নির্দেশনা পাওয়া গিয়েছে।
সাধারণত সরকার প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে, তবে এই ক্যাবিনেট ১৮০ দিনের বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। পরিকল্পনার বিশদ বিষয়বস্তু পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে গৃহমন্ত্রী জানান।
প্রাথমিক অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে পণ্যমূল্য হ্রাস, সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং গ্যাস‑বিদ্যুৎ খাতে কোনো বাধা না আসা অন্তর্ভুক্ত। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি আলোচনা হয়েছে।
গৃহমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারী মন্ত্রিসভা সদস্যদের কাজের মূল্যায়ন দক্ষতা ও ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে করা হবে, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংযোগের ওপর নয়। সকল কর্মকর্তা সংবিধান, আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম মেনে কাজ করার প্রত্যাশা করা হয়েছে।
এই অগ্রাধিকার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে মূল্য নিয়ন্ত্রণ কমিটি গঠন, শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা বজায় রাখতে লজিস্টিক্স সাপোর্ট সিস্টেমের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বাধা না আসতে বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন, গ্যাস পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প শক্তি উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গৃহমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকার জনগণের ম্যান্ডেটকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে এবং পরিকল্পনা সফল করতে সকল স্তরের প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
পরবর্তী ধাপে, সরকার পরিকল্পনার বিশদ রূপরেখা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন পর্যায়ে অগ্রসর হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনসাধারণের নিরাপত্তা এবং মৌলিক সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।



